মালদার কালিয়াচক ২নং মোথাবাড়ির ঘটনায় বর্তমানে বেশ সরগরম বাংলার রাজনীতি মহল। সেখানকার চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে NIA। যদিও ঘটনার যাবতীয় তথ্য পুলিশ তাদের হাতে তুলে দিয়েছে, কিন্তু তাতে তদন্তকারী সংস্থা খুশি হতে পারেনি। ফলে এবার নিজেরাই ময়দানে নেমে পড়েছে! আর এর জেরেই একেবারে ঘটনার স্থলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন NIA আধিকারিকরা। একের পর এক ঘটনায় জড়িত সন্দেহে করছেন গ্রেফতার! আর এতেই স্থানীয় পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এক মহিলা সাংবাদিকদের জানান, কোনো কারণ ছাড়াই তার স্বামী ও ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন অফিসাররা।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত ১লা এপ্রিল। অভিযোগ, কালিয়াচক ২নং ব্লক অফিসে ৭জন কর্মরত বিচারককে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখা হয়। অন্য এক বিচারককে আমলিতলা এলাকায় যাওয়ার পথে আটকে রাখা হয় বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি, বিচারকদের ব্লক অফিস থেকে বের করে আনার সময়ও তাদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। আর এরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় এই ঘটনার তদন্ত CBI বা NIA-এর মাধ্যমে করানোর জন্য। ব্যস্, নির্দেশ আসতেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে যান অফিসাররা। শুরু হয় তাদের যাবতীয় তদন্তের কার্যকারিতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিচারকদের পাইলট গাড়ি উলটে যাওয়ার ঘটনাস্থল সবটা ঘুরে দেখেন তারা। এর পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় থানার পুলিশের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়। গোটা এলাকা ভিডিয়োগ্রাফি করা হয় এবং পুলিশের বয়ানও রেকর্ড করা হয়।
না, এখানেই শেষ হয়নি! এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে রাস্তার ধারের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন NIA আধিকারিকরা। বলে রাখা ভালো, এই ঘটনার জেরে মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক এই দু’টি থানা মিলিয়ে মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও এই অশান্তির ঘটনার মূলচক্রী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। তাকে প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পাকড়াও করে CID। পরে এডিজি উত্তরবঙ্গ তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মোথাবাড়িকাণ্ডে মোফাক্কারুলের ভিডিও দারুণ ভাইরাল। যেখানে দেখা গিয়েছে, কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে অশান্তির সময় গাড়ির মাথায় উঠে তিনি বক্তৃতা দিচ্ছেন। যদিও পুলিশের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, তিনিই মূল প্ররোচনাকারী।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। না, শুধু উত্তপ্ত নয়, বরং বিক্ষোভের নামে এক প্রকার তাণ্ডব চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। প্রথমে তাদের অভিযান শুরু হয় পথ অবরোধ থেকে। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত মোথাবাড়িতে অবস্থিত কালিয়াচক ২নং বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। চলে ৭জন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রেখে তুমুল তাণ্ডব। যদিও গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে ওই সকল অফিসারকে কোনওমতে উদ্ধার করে। এদিকে পুলিশের ধর-পাকড় শুরু হতেই মোফাক্কারুল ও তার সঙ্গী ধৃত সহযোগী এক্রামুল বাগানি বেঙ্গালুরু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তারা দু’জনেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে ধরা পড়ে যান। আপাতত তিনি হাজতবাসী। আর সেই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জল কত দূর গড়ায়, সেটাও এখন দেখার।
