Suvendu Adhikari unmasks the politics of appeasement practiced by the 'Pisi-Bhaipo'!

পিসি-ভাইপোর তোষণ রাজনীতির মুখোশ খুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী !

“তৃণমূলের কথায় বিশ্বাস করে আমরা চরম বিপদে পড়েছিলাম!”—ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আতঙ্কে এবার দলে দলে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে ছুটছেন হাজার হাজার হিন্দু ও মতুয়া উদ্বাস্তু। সিএএ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর চক্রান্তের অবসান ঘটিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরবাড়ি এখন পরিণত হয়েছে নাগরিকত্বের অধিকার পাওয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। ওপার থেকে আসা নিপীড়িত মানুষদের রাষ্ট্রহীন করার যে সুগভীর চক্রান্ত তৃণমূল করেছিল, আজ তা পুরোপুরি ফাঁস হয়ে গেছে। ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া ভাই-বোনেদের এই ঐতিহাসিক ঢল এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অমোঘ হুঁশিয়ারি নিয়ে ঠিক কী তথ্য সামনে এল?
বিগত বছরগুলোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার মতুয়াদের কেবল নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। পিসি-ভাইপো বুক চাপড়ে প্রচার করেছিলেন—রেশন কার্ড, আধার কার্ড আর ভোটার আইডি থাকলেই নাকি নাগরিকত্ব নিশ্চিত, সিএএ-তে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই! তৃণমূলের এই চরম বিভ্রান্তিকর বার্তার জেরে বহু সরল সোজা উদ্বাস্তু পরিবার সিএএ-র ফর্ম ফিলাপ করেননি। কিন্তু বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পরই সামনে এল আসল সত্য। বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার বৈধ উদ্বাস্তুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বেমালুম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে! অর্থাৎ, তৃণমূলের কথায় চললে আজ মতুয়ারা নিজেদের দেশেই পরবাসী হয়ে যেতেন।
এর জ্বলন্ত উদাহরণ দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দা নারায়ণ বিশ্বাস। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সপরিবারে এপারে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। ভোটার থেকে শুরু করে সমস্ত সরকারি কার্ডও ছিল। কিন্তু আজ এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নাম তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে গেছে! নারায়ণবাবু আজ আক্ষেপ করে বলছেন, “আগের সরকার বলেছিল আবেদন করতে হবে না, কিন্তু এখন দেখছি ভোটই নেই। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেই আজ ঠাকুরবাড়িতে এসেছি।” একই ক্ষোভ খুলনা থেকে আসা শঙ্কর মণ্ডলেরও। তৃণমূলের মিথ্যা তোষণের রাজনীতি কীভাবে মতুয়াদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল, আজ তা প্রতিটা শরণার্থীর মুখে স্পষ্ট।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক বিজিতকান্তি মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই রেকর্ড ভিড়ই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এতকাল মতুয়াদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছিল তৃণমূল। এখন নিজের অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষা করতেই সবাই সিএএ-র দিকে ঝুঁকছেন। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বুক চিতিয়ে মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শান্তনু ঠাকুরের দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকারের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানের কারণেই আজ এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন—যারা সিএএ-র আওতায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আবেদন করবেন না, তারা ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব হারানোর বড় ঝুঁকিতে থাকবেন। এই এক লাইনের কড়া দাওয়াইতেই আজ ঠাকুরবাড়িতে ফর্ম তোলার হিড়িক লেগেছে।
২০১৯ সালে মোদী সরকারের পাস করা সিএএ-র মূল লক্ষ্যই হলো ওপার থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের স্থায়ী ও আইনি নাগরিকত্ব দেওয়া। পাঁচ বছর ধরে তৃণমূল যে চক্রান্তের দেওয়াল তুলে রেখেছিল, আজ শুভেন্দুজীর ডবল ইঞ্জিন সরকার তা এক ঝটকায় ভেঙে চুরমার করে দিল। মতুয়ারা আজ বুঝতে পেরেছেন, পিসি-ভাইপোর জমানায় তাঁরা সুরক্ষিত ছিলেন না, তাঁদের আসল সুরক্ষা ও সম্মান রয়েছে মোদী-শুভেন্দুর জাতীয়তাবাদী সরকারের ছত্রছায়াতেই।
আপনার কী মনে হয়? তৃণমূলের মিথ্যা তোষণ নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মতুয়াদের এই সিএএ আবেদনের রেকর্ড ভিড় কি আসলেও বাংলায় এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *