পশ্চিমবঙ্গ এখন ভোটের জন্য সাজগোজ শুরু করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলি-ও মেতে উঠেছে ভোট পুজোর আনন্দে। এখন আর মাস খানেক অপেক্ষা, তার পরই ভোট পুজোর বাদ্যি বেজে যাবে। এদিকে ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে হাজির হয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা নিয়ে নানা মহলে নানা আলাপচারিতা শুরু হয়েছিল। যদিও কমিশন আগেই জানিয়েছিল, বাংলায় সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে চায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তাই এই সকল প্রস্তুতি।
বলে রাখা ভালো, বাংলায় দু’দফায় ভোট সম্পন্ন হবে। আর এই ভোট করতে ইতিমধ্যেই মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে উপস্থিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক CEO মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। তবে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আরও ৪ রাজ্যে ভোট রয়েছে। আর সেই সব রাজ্যের ভোট সম্পন্ন হলেই দফায় দফায় বাহিনী পৌঁছাবে বাংলায়। এমনকি, গণনার সময় আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলেও জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাধারণ আধা-সামরিক বাহিনীর এক-এক কোম্পানিতে মোট ১৩০-১৩৫ জন জওয়ান থাকেন। যাদের মধ্যে ৮০-১০০ জন জওয়ানকে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনের কাজে লাগানো হয় এবং বাকিদের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত করা হয়। তবে, এই একটি কোম্পানি বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত থাকে। যেমন— ১০ থেকে ১২ জন জওয়ান নিয়ে তৈরি হয় একটি সেকশন। আর এই ৩টি সেকশন তথা ৩০-৩৫ জন জওয়ান মিলে তৈরি হয় একটি প্লাটুন। আবার ৩টি প্লাটুন মানে কমপক্ষে ১৩০ জন জওয়ান নিয়ে তৈরি হয় একটি কোম্পানি। আর এই হিসেব অনুযায়ী-ই বাংলায় আড়াই হাজার কোম্পানি বাহিনী অর্থাৎ প্রায় ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার মতো জওয়ান ভোটের প্রাক্কালে বঙ্গে আসছেন।
মনোজ কুমার আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মূল কাজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। তাই কোথাও কোনো অশান্তি হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের কর্তব্য। সেই সঙ্গে কোনো বুথে কোনো রকম অনৈতিক কাজকর্ম চললেও সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর ক্ষমতাও দেওয়া হবে তাদের উপর। আসলে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ হল—পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলেছে কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিলেও তার যথেষ্ট ব্যবহার হয় না। ফলে সমস্যা একই থেকে যায়, শুধু বাহিনী আসে আর যায়। তাই এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথোপযুক্ত ভাবে কাজ লাগাতেই তৎপর হয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি এই কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে আগরওয়াল জানিয়েছেন, আইন মেনেই এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী কাজ করবে। যদি কারোর বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রীয় বাহিনীদের হেনস্তা করার কোনো অভিযোগ ওঠে তাহলে তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেই প্রয়োজন মত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে সেই এলাকায়। এর পাশাপাশি ভোটে যাতে কোনরকম হিংসামূলক ঘটনা না হয় তার জন্যও কড়া ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়েছে কমিশন। তবে, এখন দেখার এই সকল রকমের ব্যবস্থা নেওয়ার পর বাংলায় কতটা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।