বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে এবার সরকার গড়ার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। বাংলার আনাচে-কানাচে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? আর কারা ঠাঁই পাচ্ছেন মোদীজির এই স্বপ্নের মন্ত্রিসভায়? মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। আজই হয়তো নির্ধারিত হবে বাংলার ভাগ্য। আর সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী ২৫-শে বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ব্রিগেডের বিশাল জনসভায় শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে তিনি আজ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অবিসংবাদিত আস্থাভাজন। তবে মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে এক নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে চলেছে বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, যারা তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের ধরাশায়ী করেছেন, তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কার। দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারানো সৌরভ শিকদার, টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসকে হারানো পাপিয়া অধিকারী এবং দিনহাটায় উদয়ন গুহকে পরাজিত করা অজয় রায়ের নামও তালিকায় প্রায় নিশ্চিত।
এছাড়া বিধাননগরে সুজিত বসুকে হারানো শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং আসানসোল উত্তরে মলয় ঘটককে হারানো কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভাগ্যেও জুটতে পারে মন্ত্রিত্বের তিলক। বাদ যাচ্ছেন না দলের অভিজ্ঞ মুখগুলোও। দমদমে ব্রাত্য বসুকে হারানো অরিজিৎ বক্সি যেমন দৌড়ে আছেন, তেমনই মন্ত্রী হতে পারেন লড়াকু নেতা দিলীপ ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ এবং নিশীথ প্রামাণিক। অগ্নিকন্যা অগ্নিমিত্রা পাল এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কেও মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নারী শক্তির জয়গান গাইতে পারে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট—দক্ষ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এক সরকার গঠন করা, যা বাংলাকে দুর্নীতির অন্ধকার থেকে টেনে বের করে উন্নয়নের আলোয় নিয়ে আসবে। সিন্ডিকেট মুক্ত এবং অনুপ্রবেশমুক্ত এক নতুন বাংলা গড়ার শপথ নিয়ে আজই চূড়ান্ত হতে পারে সেই স্বপ্নের ‘টিম বেঙ্গল’। তোষণের দিন শেষ, এবার শুরু উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। ২৫-শে বৈশাখের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা বিশ্ব। আপনার মতে, বাংলার এই নতুন মন্ত্রিসভায় আর কাকে কাকে রাখা উচিত? কমেন্টে জানান।