বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর দিন, নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে। শনিবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা এখনও অব্যাহত। শনিবার শপথ গ্রহণের আগে শুক্রবার এই নিয়ে বৈঠক করবে বিজেপি।
এগারো সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘পাল্টানো দরকার’ ক্যাম্পেনে বিজেপি কোনও একজনকে মুখ করেনি। তৃণমূলকেও এ ব্যাপারে কোনও ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দেয়নি। দল লড়েছিল সমষ্টিগত লড়াই দিয়ে। তবে সব সময়েই সব ক্ষেত্রে একজন ‘ফার্স্ট এমং ইক্যুয়াল’ থাকেন। অর্থাৎ পদাধিকারে কমবেশি সমকক্ষ হলেও অন্যদের তুলনায় এগিয়ে।
বাংলায় পালাবদলের পর নতুন সরকার নিয়ে এমনিতেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সেই উৎসাহ ও উন্মাদনাকে মর্যাদা দেওয়ার কথাটাও সব দলকে মাথায় রাখতে হয়। তাই শুধু পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন নয় অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যদের দায়িত্ব এখন অনেক। সেক্ষেত্রে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কাদের আনা হবে, সেটাও দেখার মতো বিষয় হবে।
বিজেপির তরফ থেকে যেমনটা জানানো হয়েছে, আগামী ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই শপথগ্রহণ হবে। সেখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিধায়ক ও অন্যান্য মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। সকাল দশটা থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। আর সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এমনকি অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ বিজেপির তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমিক ভট্টাচার্য, স্বপন দাশগুপ্ত, রুপা গাঙ্গুলী, দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে প্রমুখ। এর আগে নরেন্দ্র মোদী নিজেই জানিয়েছিলেন যে, আগামী ২৫ বৈশাখই বাংলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথগ্রহণ নেবেন। সেই মতোই দলের তরফ থেকে এবার জানিয়ে দেওয়া হল যে এই দিনই হবে শপথগ্রহণ। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে সহ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংগঠনগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ–এর নেতৃত্বে দল সাধারণত এমন একজনকে বেছে নেয়, যিনি শুধু নির্বাচনী সাফল্যের মুখ নন, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা, দলীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন। সেই কারণেই শুভেন্দু অধিকারী বা শমীক ভট্টাচার্য–এর পাশাপাশি অন্যান্য অভিজ্ঞ নেতাদের নামও আলোচনায় রাখা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কে এই দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করবে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, জাতীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বার্তা কী দিতে চাইছে বিজেপি, তার উপরই।