প্রকৃতির এক চরম রোষে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেছে সুদূর ভেনেজুয়েলা। সে দেশের উত্তরাঞ্চলে আছড়ে পড়া ৭.২ এবং ৭.৫ তীব্রতার দু-দুটো প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প কেড়ে নিয়েছে শতাধিক নিরীহ মানুষের প্রাণ, আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি নাগরিক। ভেঙে পড়েছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ। যখন এই চরম হাহাকার আর কান্নায় ভেঙে পড়েছে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই ভৌগোলিক দূরত্বের সমস্ত গণ্ডি মুছে দিয়ে প্রকৃত বন্ধুর মতো সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিপদের দিনে শুধু মুখের কথায় পাশে থাকা নয়, বরং বুক দিয়ে বন্ধুকে রক্ষা করার ভারতীয় ঐতিহ্যকে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁরই দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে ভারত অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শুরু করেছে এক বিশেষ মানবিক উদ্ধার অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন অ্যামিস্টাড’। অ্যামিস্টাড শব্দের অর্থই হলো বন্ধুত্ব, আর সেই অমলিন বন্ধুত্বের বার্তা বুকে নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দুটি বিশালাকার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে। এই বিমান দুটিতে শুধু ত্রাণ সামগ্রী নেই, রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপন্ন মানুষের জন্য এক নতুন জীবনের আশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর পাওয়া মাত্রই কোনো কালবিলম্ব না করে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে ভেনেজুয়েলার পাশে থাকবে। মোদী সরকারের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপ আজ ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভারতের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে একজন প্রকৃত ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই বিশেষ উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সম্পূর্ণ ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট এবং ৩৫ টনেরও বেশি জরুরি জীবনদায়ী ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী।
তবে সবচেয়ে বড় চমক আর ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক হলো এই অভিযানে পাঠানো দুটি বিশেষ ‘ভীষ্ম কিউব’। এই ভীষ্ম কিউব হলো ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এক অত্যন্ত আধুনিক ও মডুলার চিকিৎসা ইউনিট, যা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্র বা দুর্যোগ কবলিত এলাকায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মিনি হাসপাতালে রূপান্তরিত হতে পারে। যেখানে এক্স-রে থেকে শুরু করে জটিল অস্ত্রোপচারের সমস্ত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা মজুত রয়েছে। অতীতেও বহু আন্তর্জাতিক সংকটে এই ভারতীয় প্রযুক্তি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে, আর এবার তা ভেনেজুয়েলার মাটিতে আর্তের সেবায় নিয়োজিত হবে।
ভেনেজুয়েলা যখন দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনটন কাটিয়ে ওঠার লড়াই লড়ছিল, তখন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছিল। এমন চরম সংকটের দিনে ভারতীয় সেনা চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পৌঁছে দিনরাত এক করে মানুষের চিকিৎসা শুরু করবেন। ভারতের এই নিঃস্বার্থ মানবিকতা আজ প্রমাণ করে দেয় যে, বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি কতটা শক্তিশালী এবং সংবেদনশীল।
তুরস্ক, সিরিয়া, নেপাল, মরক্কো কিংবা তুর্কিয়ে— পৃথিবীর যেখানেই যখনই কোনো বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছে মানুষের হাসি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভারত সবার আগে সেখানে ত্রাতার ভূমিকায় অবনীল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই শক্তিশালী ও দয়ালু ভাবমূর্তি আজ গোটা বিশ্বের কাছে এক পরম নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলার এই কঠিনতম সময়ে ভারতের বাড়িয়ে দেওয়া হাত কেবল কিছু ওষুধ বা ত্রাণের হিসাব নয়, এটি হলো নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া ভারতীয় সভ্যতা ও মানবিকতার এক অনন্য জয়গাথা।
