শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক স্লোগান – ‘এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান, এক নিশান’ , আজ যেন নতুন করে প্রাণ পেয়েছে বাংলার মাটিতে। দীর্ঘদিনের অরাজকতা, অনুপ্রবেশ আর তোষণের রাজনীতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলে এক নতুন, সুরক্ষিত এবং স্বভিমানী বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তির এক মহতী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সদনের মঞ্চ থেকে তিনি যে বলিষ্ঠ বার্তা দিলেন, তা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের বুকে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, চৈতন্যদেব, নেতাজি এবং শ্যামাপ্রসাদের এই পবিত্র পুণ্যভূমিকে কোনোভাবেই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির আখড়া হতে দেওয়া যাবে না। বাংলার সনাতন সংস্কৃতি, ভূখণ্ড এবং ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে, তথা ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’-এর সুরক্ষাকবচ মজবুত করতে বিজেপি সরকার অত্যন্ত দ্রুত নিয়ে আসছে একগুচ্ছ কঠোর ও ঐতিহাসিক আইন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড তো কার্যকর হচ্ছেই, তার পাশাপাশি জমি জেহাদ, লাভ জেহাদ এবং জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তনের মতো গভীর সামাজিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে এক আপসহীন ও কঠোর আইনি প্রাচীর তুলে ধরতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
জনগণের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা যে এই সরকারের মূল লক্ষ্য, তা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপে আজ প্রমাণিত। বছরের পর বছর ধরে চলা অনুপ্রবেশের সমস্যায় যারা বাংলার ভূমিপুত্রদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল, সেই সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেখান থেকে তাদের সসম্মানে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অথচ, ধর্মের নামে নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে যারা সুদূর থেকে এ দেশে একটু আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিলেন, সেই সমস্ত প্রকৃত হিন্দু ও সংখ্যালঘু শরণার্থীদের প্রতি পরম মমতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র অধীনে সেই সমস্ত পীড়িত শরণার্থীদের সম্মানসহ এ দেশের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা বিজেপি সরকারের নীতিগত সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উদাহরণ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রমাণ করে দেয় যে, তিনি শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং বাংলার মাটিকে অনুপ্রবেশকারী ও জেহাদিদের কবল থেকে মুক্ত করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করছেন। রবীন্দ্র সদনের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর ভবানীপুরে একটি আধুনিক বিজেপি কার্যালয়ের উদ্বোধন করে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন যে তাঁর দল ও সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের দুয়ারে উপস্থিত। এই কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সাধারণ নাগরিকরা সমস্ত রকম সরকারি ও সামাজিক পরিষেবা পাবেন। ক্ষমতার অহংকার নয়, বরং মানুষের সেবাকেই পরম ধর্ম মনে করে শুভেন্দু অধিকারী আজ বাংলাকে এক নতুন ভোরের দিকে নিয়ে চলেছেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মাথা উঁচু করে, সম্পূর্ণ সুরক্ষিতভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পাবেন।
