A major move could emerge during the visit to Bengal in June.

জুন মাসে বঙ্গ সফরেই সামনে আসতে পারে বিরাট পদক্ষেপ ! ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ এবার কেবল স্লোগান নয় করে দেখানোর পালা !

লোকসভা ভোটের আবহ মিটতেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেল মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় মেগা অ্যাকশন! ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলিকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র এবং দুর্ভেদ্য করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুপ্রবেশকারীদের বুক কাঁপিয়ে মোদী সরকারের সেই বিখ্যাত তিন স্তরীয় নীতি—‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সোজা ঘাড় ধরে বিতাড়ন করার প্রক্রিয়া এবার প্রশাসনিক স্তরে কার্যকর হতে চলেছে। এই লক্ষ্যেই দেশজুড়ে চার রাজ্যের এক ম্যারাথন বর্ডার সফরে বেরিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যার সবচেয়ে বড় ধামাকাটি হতে চলেছে আগামী ১৫ই জুন, আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে! কী সেই মহাপরিকল্পনা?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই মেগা অ্যাকশন প্ল্যানকে দুটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে তিনি দেশের পশ্চিম সীমান্ত অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান বর্ডারকে সুরক্ষিত করছেন। ইতিমধ্যেই রাজস্থানের বিকানের জেলার অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘সাঞ্চু’ বিএসএফ পোস্টে পৌঁছে গেছেন শাহজী। সেখানে মরুভূমির উত্তপ্ত বালিতে দাঁড়িয়ে ফ্রন্টলাইন জওয়ানদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপর বিকানেরেই ৫টি জেলার ডিএম, এসপি, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিএসএফ কর্তাদের নিয়ে এক হাই-প্রোফাইল যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে সুঁই গলারও যেন সুযোগ না থাকে—সেই কড়া রণকৌশল তৈরি করেছেন তিনি।
রাজস্থান সফর সেরেই আগামী ২৯শে মে গুজরাটের ভুজে যাচ্ছেন অমিত শাহ। কচ্ছের রন এলাকার অত্যন্ত দুর্গম এবং বিতর্কিত ‘হারামি নালা’ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরজমিনে খতিয়ে দেখবেন তিনি, যাতে জলপথ ব্যবহার করে কোনো জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারী ভারতের মাটিতে পা রাখতে না পারে। পশ্চিম সীমান্তকে লোহার চাদরে মুড়ে ফেলার পর, জুন মাস থেকেই অমিত শাহের মূল ফোকাস ঘুরে যাচ্ছে পূর্ব সীমান্তে, বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে। আগামী ৫ই জুন তিনি যাচ্ছেন ত্রিপুরায়, সেখানে বিএসএফ-এর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পরেই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—১৫ই জুন, বাংলার মাটিতে পা রাখছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ই জুনের এই বঙ্গ সফর ভূ- geopolitics বা ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এক ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে। বিগত তৃণমূল জমানায় বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলেছে। তোষণ আর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে বর্ডারকে অরক্ষিত রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় পরিস্থিতি বদলাতেই রাজ্য সরকার এখন বাধ্য হয়ে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। অমিত শাহ খোদ বর্ডারে দাঁড়িয়ে এই কাজের গতিপ্রকৃতি তদারকি করবেন। ওপার থেকে একটা পাখিও যাতে বেআইনিভাবে এপারে উড়তে না পারে—সেই ‘জিরো-ইনফিলট্রেশন’ বা শূন্য-অনুপ্রবেশ নীতি সফল করতে নবান্নকে কড়া বার্তা দেবেন শাহজী।
বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস হবে না। ভোট মিটতেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে রাজস্থান থেকে গুজরাট, আর ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবঙ্গ চষে বেড়াচ্ছেন, তা প্রমাণ করে যে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করতে মোদী-শাহ জুটি কতটা সংকল্পবদ্ধ। অনুপ্রবেশকারীদের করিডোর এবার চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে বাংলার মাটিতে।
আপনার কী মনে হয়? অমিত শাহের এই ১৫ই জুনের বঙ্গ সফর কি আসলেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করতে পারবে? কমেন্ট আপনার মতামত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *