রাত পোহালেই প্রথম দফার ভোট। ২৬-এর নির্বাচনে বাংলার গদি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল-বিজেপি দুই দলই। যদিও ভাগ্য গণনার জন্য ৪ঠা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। তবে, তার আগেই প্রথম দফায় কোন কোন কেন্দ্রে কে এগিয়ে থাকবে তা নিয়ে কিছু রিপোর্ট সামনে উঠে এসেছে। তবে সেই সিপোর্টের আলোচনা করার আগে জানিয়ে রাখি, কোন কোন কেন্দ্রে আগামীকাল হতে চলেছে ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে দুই দিনাজপুর, মালদহ-সহ জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও দুই মেদিনীপুর রয়েছে।
যদিও উত্তরবঙ্গে বিজেপি-র পাল্লা বেশ খানিকটা ভারী। তাই তাদের সবচেয়ে বড়ো আশার জায়গা এখন ওটি। তাছাড়া, বিগত নির্বাচনগুলিতে কোচবিহারে বেশ ভালো ফল করেছিল তারা। সে কারণে এবার উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বহু হেভিওয়েট নেতার দেখা মিলেছে প্রার্থী হিসেবে। যার মধ্যে একজন হলেন কোচবিহারের মাথাভাঙা আসনের প্রার্থী তথা হেভিওয়েট নেতা নিশীথ প্রামাণিক। এছাড়া, গেরুয়া শিবির আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী শিলিগুড়ি আসনের প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনের শিখা চট্টোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে। এর পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম বিজেপির পুরনো কিছু শক্তি কেন্দ্র। কারণ এখান থেকেই গত নির্বাচনে বিজেপির অধিকাংশ বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। শালতোড়া আসনে চন্দনা বাউড়ি বা বাঁকুড়া আসনে নীলাদ্রি শেখর দানাও বর্তমানে বিজেপির জয় যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য নাম হতে চলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সবচেয়ে বড়সর ভোটযুদ্ধ বাঁধতে পারে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। কারণ এখানের প্রার্থী খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া, পদ্ম শিবিরের আশা পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর আসনের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বিজেপির জন্য বেশ অনেকটা পরিমাণ অক্সিজেন যোগাতে পারে। এর পাশাপাশি আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে অগ্নিমিত্রা পলের ওপর দল ভরসা রাখছে বলেও জানা যাচ্ছে। আর এই আবদিক বিবেচনা করেন IANS-ম্যাট্রাইজের সমীক্ষা বলছে, এবার রাজ্যে বিজেপি ১০০ থেকে ১১৫টি আসন পেতে পারে। তবে অন্যান্য সমীক্ষার রিপোর্টে বিজেপিকে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি যদি ১০০-র কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, তাহলেই তাহলেই নবান্নের চাবি তাদের হাতে চলে আসতেই পারে।
অর্থাৎ, প্রথম দফার একটি বড়ো রাজনৈতিক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল। এছাড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, রানীগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলগুলিও বেশ প্রভাব ফেলতে চলেছে প্রথম দফাতেই। কারণ বিগত কয়েক বছরে এই সকল কেন্দ্রে নিজেদের জায়গা অনেকটাই পাকা করে ফেলেছে পদ্ম শিবির। ফলে এই কেন্দ্রের আসনগুলি নিয়ে তাদের স্বপ্ন দেখা মোটেও ভুল নয়। তাছাড়া, SIR-এ বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যার জেরে প্রথম দফার কেন্দ্রগুলি থেকেই প্রায় ৩৭ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলত এটিও শাসক গোষ্ঠীর জন্য এক বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, প্রথম দফার ১৫২টি আসন নিয়ে। তবে, প্রথম দফার ফলাফল কিন্তু আগামী সরকারের ভাগ্য কিছুটা হলেও নির্ধারণ করে দিতে চলেছে তা বোঝাই যাচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোটে CAA এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক দক্ষিণবঙ্গে বিজেপি-র জয় নিশ্চিত করতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন। তবে, নবান্নের গদি কার দখলে যায়, তা কিছুটা হলেও আগামীকাল স্পষ্ট হতে চলেছে বলেই বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন।
