প্রথম দফার ভোট শেষ হবার আগেই জল্পনা তুঙ্গে! বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা— হাওয়া কোন দিকে ? কিন্তু যারা মাঠের লড়াইটা বোঝেন, তারা জানেন যে পরিবর্তন আর দরজায় কড়া নাড়ছে না, পরিবর্তন ইতিমধ্যই ঢুকে পড়েছে। বিজেপির অন্দরমহল থেকে যে খবর আসছে, তাতে ঘুম উড়েছে কালীঘাটের। দাবি করা হচ্ছে, প্রথম দফার ফলের পর বিজেপি যে ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে চলেছে, তা অভাবনীয়। আজ আমরা কাটাছেঁড়া করব সেই ১৫২ আসনের ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে, যা বাংলার রাজনীতির সমীকরণ চিরতরে বদলে দিতে চলেছে।
প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার আগেই বিজেপি নেতৃত্বের মুখে চওড়া হাসি। সূত্রের খবর, দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা এবং বুথ ফেরত খবর অনুযায়ী, বিজেপি ইতিমধ্যেই জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে। আর সেই লক্ষ্যমাত্রা ছোটখাটো নয়— একেবারে ১৫২ আসন! কেন এই আত্মবিশ্বাস? কারণ উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সর্বত্রই মানুষ দু’হাত তুলে পদ্মফুলকে আশীর্বাদ করছেন। গত কয়েক বছরে যে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট আর তোষণ রাজনীতির শিকার হয়েছে বাংলার মানুষ, তার যোগ্য জবাব তারা ইভিএম-এ দিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা বলয় থেকে শুরু করে আদিবাসী জনপদ— মোদীজির গ্যারান্টিতে ভরসা রেখেছেন সাধারণ মানুষ। যখন নিচুতলার কর্মীরা রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন যে ‘ অবাধ ভোট হতে পারে ‘, তখনই শাসকদলের কপালে ভাঁজ পড়ছে। কারণ তারা জানে, অবাধ ভোট হওয়া মানেই তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজা।
তবে এই সাফল্যের কারিগর একজনই— নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর এক একটি জনসভা মানেই ছিল জনজোয়ার। দিদি যতবার ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন, বাংলার মানুষ ততবার ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে মোদীজিকে আপন করে নিয়েছেন। মানুষ বুঝে গেছেন, কেন্দ্র আর রাজ্যে যদি একই দলের সরকার থাকে, তবেই বাংলার উন্নয়ন সম্ভব। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা যারা ঘরের নামে বা শৌচালয়ের নামে আত্মসাৎ করেছে, তাদের দিন এবার শেষ। ১৫২ আসনের এই ভবিষ্যৎবাণী আসলে সেইসব বঞ্চিত মানুষের স্বপ্নপূরণের ইঙ্গিত। কৃষকদের সম্মান নিধি থেকে শুরু করে বিনামূল্যে রেশন— মোদী সরকারের এই কাজগুলোই আজ বাংলায় বিজেপির জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করে দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের পায়ের তলার মাটি যে সরে গেছে, সেটা তাদের নেতাদের মুখ দেখলেই আজ বোঝা যাচ্ছে।
বিজেপি যখন জয়ের অঙ্ক কষছে, তখন শাসকদল তৃণমূলের অবস্থা কী? অভিযোগ উঠছে, হার নিশ্চিত জেনে তারা এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করছে, নির্বাচন কমিশনকে গালি দিচ্ছে। কিন্তু এবার আর ধোপে টিকবে না কোনো চাল। ছাপ্পা ভোট বা বুথ দখলের যে সংস্কৃতি তারা চালু করেছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
বাংলার মানুষ এবার নির্ভয়ে বুথে যাবে। আর যখনই সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেন, তখনই জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস। ১৫২টি আসন জেতা বিজেপির কাছে এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিরোধীরা যতই জোট বাঁধুক বা ষড়যন্ত্র করুক, মোদী ঝড়ের সামনে তারা আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। কারণ এটা কেবল বিজেপির জয় নয়, এটা বাংলার সম্মান পুনরুদ্ধারের জয়।
পরিবর্তন আসছে, আর সেই পরিবর্তনকে রুখবে এমন সাধ্য কারো নেই। প্রথম দফার এই জোয়ার বলে দিচ্ছে, বাংলার মানুষ এবার আর কোনো ভুল করবেন না। ১৫২ আসনের এই ভবিষ্যৎবাণী আসলে জনতার রায়ের প্রতিফলন। বিজেপি সরকার মানেই সোনার বাংলা, বিজেপি সরকার মানেই তোলাবাজি মুক্ত বাংলা।
