comeback mamata

বিধানসভা ভোটে ব্যাকফুটে থেকেও মাস্টারস্ট্রোক! বিজেপি-বামকে ধুলোয় মিশিয়ে বার কাউন্সিলের ক্ষমতা হাতালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। মোট ২৩টি আসনের মধ্যে ১৫টিতেই জয় পেয়েছেন মমতাপন্থী প্রার্থীরা। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা তৃণমূলের জন্য এই ফলাফল তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই জয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সাংগঠনিকভাবে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে কালীঘাট শিবির?

রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে এসেছে ১৫টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৩টি, সিপিএমের ঝুলিতে রয়েছে ৩টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে ২টি আসন। নির্বাচনে জয়ী তৃণমূলের আইনজীবী প্রার্থীরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তাঁদের মধ্যে একাধিক পরিচিত ও হেভিওয়েট নামও রয়েছে।

তৃণমূল আইনজীবী সেলের প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, আনসার মণ্ডল, অশোক দেব, ইন্দ্রনীল বসু এবং সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী জয় পেয়েছেন। জানা গিয়েছে, এই প্রার্থীদের নির্বাচনে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি ছিল এবং তাঁর পছন্দের প্রার্থীরাই এবার বড় সাফল্য পেয়েছেন।

নির্বাচনে মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও তৃণমূলের ফল নজরকাড়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য বার কাউন্সিলের ২৩টি আসনের মধ্যে পাঁচটি মহিলা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সেই পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। ফলে সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি মহিলা আসনেও তৃণমূলের শক্তি স্পষ্ট হয়েছে।

তৃণমূল আইনজীবী সেলের সদস্য সঞ্জয় বর্ধনের বক্তব্য অনুযায়ী, গত মার্চে রাজ্যের সমস্ত জেলা আদালতে পেশায় যুক্ত আইনজীবীদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাজ্য বার কাউন্সিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই নির্বাচনের ফলেই এবার ২৩ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠনের পথ তৈরি হয়েছে।

গতবারের ফলাফলের সঙ্গেও এবারের ফলের তুলনা চলছে। আগের নির্বাচনে বিজেপি ৩টি এবং কংগ্রেস ২টি আসন পেয়েছিল। এবারও সেই দুই দলের আসনসংখ্যায় পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে বামেদের আসন একটি কমেছে। গতবার সিপিএম ৪টি আসন পেলেও এবার তাদের দখলে এসেছে ৩টি আসন।

জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তৃণমূলের তরফে নতুন বোর্ড গঠন করা হতে পারে। ফলে আগামী দিনে রাজ্য বার কাউন্সিলের প্রশাসনিক কাঠামোতেও মমতাপন্থী শিবিরের প্রভাব আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ফের রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসবেন এবং তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। সেই বার্তার পর বার কাউন্সিলের এই জয় নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও একটি নির্বাচনের ফলাফলকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সরাসরি মাপকাঠি হিসেবে দেখা যায় না, তবুও কালীঘাট শিবিরের কাছে এই ফল নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বার্তা। আগামী দিনে এই সাফল্য দলীয় সংগঠনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *