ক্ষমতায় থাকার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি অভিযানে সরাসরি বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টে আরও বড় বিপাকে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের তৎকালীন একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে তীব্র বাদানুবাদ ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শুনানিপর্বে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে যুক্তি দেন— পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটেছে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে এই তদন্ত সিবিআই করবে নাকি স্থানীয় পুলিশ, তা বর্তমান রাজ্য সরকার নিজেই ঠিক করতে পারে। ইডির এই আর্জি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট থেকে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ নেওয়ার চেষ্টা প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও এএসজি এসভি রাজু পাল্টা সুর চড়িয়ে জানান, ক্ষমতা বদল হলেও অপরাধের সময়কার পরিস্থিতি ও গুরুত্ব এতটুকু কমে যায় না। একজন আসীন মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেন, তবে তার তদন্ত স্থানীয় পুলিশ দিয়ে করানো সম্ভব নয়।
মামলার শুনানির একপর্যায়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী যখন জানান যে তারা মামলার গুণাগুণ বা মেরিটসের ভিত্তিতে সওয়াল করতে চান, তখনই বিচারপতি পিকে মিশ্র অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন— “আপনি সেটা করতেই পারেন, কিন্তু সেটা আপনার জন্য খুব একটা ভালো হবে না।” একই সাথে শুনানির পদ্ধতি নিয়ে আদালতের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে বিচারপতি জানিয়ে দেন, আইনজীবীরা একবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা আর একবার গুণাগুণ নিয়ে আলাদা সওয়াল করতে পারবেন না, দুটো বিষয়ের শুনানি একসাথে হবে এবং আদালতই ঠিক করবে শুনানির গতিপ্রকৃতি কীভাবে চলবে। সব মিলিয়ে আই-প্যাক ও ইডির সবুজ ফাইল সংক্রান্ত মামলায় পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বড় অস্বস্তির বার্তা দিল।
