সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ দুই বাংলাতেই ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো বাঁকড়া এলাকার গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প জায়গা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশের নোয়াখালীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নতুন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হচ্ছে, প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কোনো সরকারি তদন্ত বা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদসূত্র থেকেও এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অভিযোগ করছেন, মন্দিরটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও দাবি করা হচ্ছে, কলকাতার মসজিদ স্থানান্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে গাইবান্ধায় একটি বড় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট একজনকে আটক করার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। একই সঙ্গে সরকারও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে।
