ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অভূতপূর্ব সাফল্য ও বিশাল জনসমাগমের পর, এবার তিলোত্তমার বুকে আয়োজিত হতে চলেছে আরও এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মহাসমাগম। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডের বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে বসতে চলেছে বিশাল ‘রামকথা’-র আসর। কলকাতার সামাজিক সংগঠন ‘অগ্রসেন সমাজ’-এর উদ্যোগে এই সুবিশাল কর্মসূচির নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। আর এই মেগা আয়োজনকে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠকে বসতে চলেছেন আয়োজক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রামকথা পাঠের এই পুণ্য কর্মসূচির জন্য প্রায় ৩ লক্ষাধিক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সুবিশাল সমাগমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এই ঐতিহ্যবাহী রামকথা পাঠের মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রদেশের বিখ্যাত চিত্র কূট তুলসী পিঠের প্রধানের ওপর। অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করতে এবং প্রশাসনিক অনুমতি লাভ করতে ইতিমধ্যই তুলসী পিঠের প্রতিনিধি রামচন্দ্র দাস কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে ব্রিগেডের মাঠে আয়োজিত ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ বঙ্গ রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে এক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তারও আগে ২০২৩ সালে ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ কর্মসূচিতেও লাখ লাখ মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রামকথার এই নতুন সংযোজন তিলোত্তমার ধার্মিক ও সামাজিক মানচিত্রে যে এক বিরাট মাইলফলক তৈরি করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন অপেক্ষা কেবল নবান্নের আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত ও চূড়ান্ত দিনক্ষণের।
