Ahead of the elections nearly 170 OCs transferred

ভোটের আগেই বাংলায় বদল প্রায় ১৭০জন ওসি! কিন্তু কেন আচমকা এমন বদল?

ভোট চলে এসেছে। আর সে কারণেই প্রচারে মেতে উঠেছে সকল রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু না, নির্বাচন কমিশনও চুপ করে বসে নেই! বরং, ইতিমধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে তাদের তরফে জানানো হয়েছে, কীভাবে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজিত হবে। কীভাবে অবজার্ভাররা কাজ করবেন, কীভাবে চলবে নজরদারি প্রক্রিয়া-সহ ইত্যাদি। সেই সঙ্গে এক ধাক্কায় একাধিক পুলিশ অফিসারের বদলিরও ঘোষণা করা হয়েছে কমিশনের তরফে। জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ১৭০ জন পুলিশ অফিসারকে বদল করার নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। যে লিস্টে রয়েছে কালীঘাট, ভবানীপুর-সহ কলকাতার ৩১টি থানার অফিসার। সেই সঙ্গে DIB থেকেও ১১ জনকে কমিশন সরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জানিয়ে রাখা ভালো, বর্তমানে সৌমিত্র বসু-কে ভবানীপুর থানার ওসি করা হয়েছে। এর আগে কলকাতা পুলিশের STF-এ ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম থানার ওসি করা হয়েছে চন্দননগর থানায় কর্মরত শুভব্রত নাথকে। এছাড়া, হাঁসখালি, কালীঘাট, জোড়াসাঁকো ও ভাঙড়ের থানারও ওসি বদল করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গিরিশ পার্কে ওসি করা হয়েছে সুমিতকুমার ঘোষকে, শিয়ালদহ GRP–র মনতোষ গৌড় হয়েছেন হাঁসখালি থানার ওসি, কালীঘাটে ওসি হয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের উৎপলকুমার ঘোষ, জোড়াসাঁকোতে গোয়েন্দা বিভাগের সুশান্ত মণ্ডলকে ওসি পদে দেওয়া হয়েছে এবং ভাঙড়ে ওসি পদে আসীন হয়েছেন দেবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

থানার ওসিদের বদলি করার পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের ১১ জন আধিকারিককেও বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া, নন্দীগ্রামের ২টি ব্লক-সহ রাজ্যের মোট ১৮টি জেলার ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে কমিশন বদলির নির্দেশ দিয়েছে। তবে, এই দফায় সবথেকে বেশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই ব্লক বিডিও বদল করা হয়েছে। যদিও এই পরিবর্তন নতুন নয়! কারণ গত ১৫ই মার্চ থেকেই এই রদবদলের ঘটনা একের পর এক চোখে পড়ছিল। সে রাতে সবার প্রথম রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবলদ করা হয়।

তবে এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের ডিজিপি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদেও রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, নতুন ডিজি করা হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে এবং সুপ্রতিম সরকারের বদলে কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার হয়েছেন অজয় নন্দ। এদিকে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়-কে কলকাতার DC পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর একে একে DIG, পুলিশ কমিশনার, জেলা শাসকদের বদলি করিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ভোটের প্রস্তুতি যে সব পক্ষের তরফ থেকেই তুঙ্গে রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে। এদিকে কংগ্রেস সদ্য ২৮৪ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। আর তা থেকেই জানা গেছে, বহরমপুর থেকে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন। ভবানীপুরে তাদের প্রার্থী প্রদীপ প্রসাদ। বালিগঞ্জ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সোমেন মিত্র। তবে, এই সকল প্রার্থীদের মধ্যে কে জয় ছিনিয়ে আনেন, আর নবান্নের মসনদে কে বসেন সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *