বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে আজ জনজোয়ারের মধ্যে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বার্তার কেন্দ্রবিন্দু বাংলার মহিলা।
সভায় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মহিলাকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মেয়েদের নিরাপত্তা, স্বনির্ভরতা আর আর্থিক শক্তি বাড়ানোই হবে বিজেপির প্রথম লক্ষ্য। তারপরই একের পর এক বড় প্রতিশ্রুতি। সবচেয়ে বড় ঘোষণা, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে রাজ্যের সমস্ত মহিলাকে বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। বিজেপির দাবি, এই টাকাই হবে মাতৃশক্তি ভরসা।
শুধু তাই নয়। গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় ২১ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। আর সন্তান জন্মের পরে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, একসঙ্গে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য পেতে পারেন নতুন মায়েরা। এখানেই শেষ নয়। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
যাতে আর্থিক সমস্যার জন্য কোনও মেয়ের পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। আর যারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, ব্যবসা করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে “লাখপতি দিদি” প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মহিলারা ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। ছোট ব্যবসা, সেলাই, রান্না, স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা কৃষির সঙ্গে যুক্ত মহিলারাও এই সুবিধা পাবেন। মহিলাদের পাশাপাশি সাধারণ পরিবারের জন্যও একাধিক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুতের বিল কমাতে “PM সূর্যগড়” প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সঙ্গে থাকবে কম দামে এলইডি বাল্ব এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সস্তায় গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস।
এদিন সভা থেকে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বড় করে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বাংলার বহু মহিলা এখনও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর বিজেপি সরকার এলে সেই চিত্র বদলাবে। তিনি জানান, গরিব মহিলারা বিনামূল্যে রেশন পাবেন। “PM Awas Yojana”-র আওতায় পাকা বাড়ি তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্যও দেওয়া হবে। আর স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য “Ayushman Bharat” প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ বহন করা হবে। সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতি ছিল কিডনির অসুখ নিয়ে। মোদি বলেন, কোনও মহিলার পরিবারে যদি কিডনির রোগী থাকেন, তাহলে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়ালিসিস করানো হবে।
তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, রাজনৈতিক আক্রমণও ছিল সভার বড় অংশ। এদিন মোদি অভিযোগ করেন, বাংলার মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য যে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা হয়েছিল, তা বিরোধীরা আটকেছে। তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে। আর সভার শেষদিকে উঠে আসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র প্রসঙ্গও। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান বাংলার মহিলা এবং জনজাতি সমাজ মেনে নেবে না। তিনি সভামঞ্চ থেকেই প্রশ্ন তোলেন—“এই অপমানের জবাব হওয়া উচিত কি না?”
অর্থাৎ, বিষ্ণুপুরের সভা থেকে একদিকে যেমন বাংলার মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল, তেমনই শুরু হল বড় রাজনৈতিক বার্তাও। এখন প্রশ্ন একটাই—এই ৩৬ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি কি বাংলার মহিলা ভোটে বড় প্রভাব ফেলবে?
সেই উত্তর মিলবে ভোটের ময়দানেই।
