The Election Commission takes even stricter measures this time to ensure transparent elections.

স্বচ্ছ ভোট করতে এবার আরো কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। ছাড় নেই কিছুতেই! পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলেই সরানো হবে বোরখা-ঘোমটাও।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা ছলচাতুরীর সুযোগ যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের সময় পরিচয় গোপন করে ভুয়ো ভোট দেওয়ার অভিযোগ রুখতেই এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যদি কোনও মহিলা ভোটার বোরখা বা মাথায় ঘোমটা পরে ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং তাঁর পরিচয় নিয়ে সামান্যও সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিচয় যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বোরখা বা ঘোমটা সরিয়ে মুখ দেখেই মিলিয়ে দেখা হবে ভোটার তালিকার সঙ্গে। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে শালীনতা বজায় রেখেই করা হবে। প্রতিটি বুথে মহিলা কর্মী বা আধিকারিক থাকবেন, তাঁরাই এই যাচাইয়ের দায়িত্ব নেবেন, যাতে কোনওভাবেই কারও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আগের কিছু অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন নির্বাচনে বহুবার অভিযোগ উঠেছে, বোরখা বা ঘোমটার আড়ালে মুখ ঢেকে কেউ কেউ ভুয়ো পরিচয়ে বুথে ঢুকে ভোট দিয়েছেন। এমনকি ‘ছাপ্পা ভোট’-এর ক্ষেত্রেও এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এবার সেই সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর আগে বিহারের নির্বাচনের সময়ও একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তাদের প্রধান লক্ষ্য একটাই—একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও তারা পিছপা হবে না।

শুধু পরিচয় যাচাই নয়, এবারের ভোটে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হচ্ছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় সব বুথকেই স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বুথকে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। প্রথম দফার ভোটে যে প্রায় ১৫০০টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

ভোটের সময় বুথ দখল বা ‘বুথ জ্যামিং’ রুখতেও একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথের ভিতরে এবং বাইরে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে প্রতিটি মুহূর্ত নজরদারিতে থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।

এবারের ভোটে কোনও রকম ফাঁক-ফোকড় থাকবে না, নিরাপত্তা নিয়ে আগেই বলেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রায় সব বুথই স্পর্শকাতর। এর মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার অতি-স্পর্শকাতর বুথ। যার মধ্যে প্রথম দফায় ভোট হতে চলা ১৫০০টি বুথ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন। বুথ জ্যামিং ঠেকাতেও নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত। বুথের ভিতরে ও বুথের বাইরে বসবে সিসিটিভি ক্যামেরা।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ভোট যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্যই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *