Allegations of illegal construction on government land

সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ….উত্তরপ্রদেশে ফের বুলডোজার অভিযান

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৭ বিঘে সরকারি জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়া। যে জমিতে এই নির্মাণ হয়েছিল, তা আসলে ছিল গোচারণভূমি। দীর্ঘদিন ধরেই সেই জমি দখলমুক্ত করার দাবি উঠছিল। এই নিয়ে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানির পর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। জানানো হয়, জমির উপরে যার অধিকার রয়েছে, তিনি যেন আদালতে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও পক্ষই সামনে আসেনি।

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়েই অভিযানে নামে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় বুলডোজার অভিযান। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে চলে ভাঙার কাজ। দুপুর আড়াইটে নাগাদ শেষ হয় পুরো অভিযান। অভিযানে ব্যবহার করা হয় ৪টি বুলডোজার। যাতে কোনও অশান্তি বা বাধা তৈরি না হয়, তার জন্য এলাকায় মোতায়েন ছিল ৫ থানার পুলিশ বাহিনী এবং এক কোম্পানি বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী। জেলাশাসকের দাবি, প্রায় ১২ বছর আগে পরিকল্পিতভাবে সরকারি জমি দখল করে এই ইদগাহ ও ইমামবাড়া তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, ওই জমির বাজারদর প্রায় ৬ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় ক্ষোভও ছড়িয়েছে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়ায় প্রার্থনা করে আসছিলেন তাঁরা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সরকারি জমিতে নির্মাণই ভাঙার কারণ হয়, তাহলে সরকারি জমিতে থাকা অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধেও কি একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে? প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু নির্মাণ ভেঙেই থামা হবে না। এই অভিযানে যে খরচ হয়েছে, সেটাও আদায় করা হবে ইদগাহ ও ইমামবাড়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসন বলছে, এটি সরকারি জমি উদ্ধারের অভিযান। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, ধর্মীয় স্থাপনা বেছে বেছে ভাঙা হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, প্রশাসন সরকারি জমি উদ্ধারের নামে একতরফাভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকেই নিশানা করছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জমির উপর তৈরি বহু মন্দির, মঠ বা অন্য ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ করা হবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। যদিও প্রশাসনের দাবি, ধর্ম নয়, শুধুমাত্র জমির বৈধতা যাচাই করেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্ভল-সহ উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় সরকারি জমি দখল করে তৈরি হওয়া নির্মাণগুলির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ এবং জমির নথি খতিয়ে দেখে আগামী দিনেও আরও উচ্ছেদ অভিযান চলতে পারে। ফলে এই ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের অভিযানের ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *