আসন্ন হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনের ঠিক মুখে খাস নন্দীগ্রামের মাটিতে আছড়ে পড়ল এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সুনামি! যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে এতদিন নিজেদের অভেদ্য দুর্গ বলে দাবি করে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস, সেই জমিতেই এবার সরাসরি ফাটল ধরিয়ে দিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া ও স্পষ্ট ‘শেষ সুযোগ’ বার্তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু সমাজের এক বিরাট অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। মনোনয়ন পেশের দিন হলদিয়ার ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে সাফ বার্তা দিয়েছিলেন— এই উপনির্বাচন আপনাদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’! আপনারা রাজ্যের বিজেপি সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন কি থাকবেন না, সেটা এখনই স্থির করুন; আর যদি থাকেন, তবে আসুন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাই।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই সরাসরি ও বলিষ্ঠ আহ্বানের পরই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে ঘটে গেল এক বিরাট পটপরিবর্তন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— শুভেন্দু অধিকারীর বার্তার পর নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পঞ্চায়েত সদস্য সহ শত শত সংখ্যালঘু কর্মী-সমর্থক তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলি থেকে বহু মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সংখ্যালঘু নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁদের সাফ কথা— “বিগত দেড় দশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কেবল আমাদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে, বিজেপির জুজু দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই আর কোনো মিথ্যে প্রলোভনে পা না দিয়ে, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির পতাকা তুলে নিয়েছি।” একের পর এক সংখ্যালঘু পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠকদের এই দলবদলে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে মমতার দল।
যদিও বিজেপির এই বিশাল ভাঙনের দাবিকে রাজনৈতিক চমক বলে উড়িয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি— অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে সংখ্যালঘুদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, ফলে এই ধরনের যোগদানের প্রভাব ব্যালট বাক্সে কতটা পড়বে তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছে।
কিন্তু নন্দীগ্রামের গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি বলছে সম্পূর্ণ অন্য কথা। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তৃণমূলের প্রতীক ও নাম ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল ভেঙে চুরমার, তার ওপর সংখ্যালঘু ভোটের এই সরাসরি মেরুকরণ ও বিজেপিমুখী স্রোত বিরোধীদের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। নন্দীগ্রামের মাটি যে আর তোষণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং সরাসরি ক্ষমতার পাশে থেকে উন্নয়নের অংশীদার হতে চাইছে— শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে সংখ্যালঘুদের এই গণ-যোগদান তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে!
