ভোটব্যাঙ্ক আর তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে দেশের পবিত্র সংবিধানকে কীভাবে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়, তামিলনাড়ুর ওবিসি সংরক্ষণ মামলা তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। তবে এবার আর পার পেল না অন্যায্য তোষণ নীতি, খোদ মাদ্রাজ হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে, ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হলেই ওবিসি সংরক্ষণের কোনো বাড়তি সুবিধা মিলবে না। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এক অত্যন্ত বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করে বলেছিলেন, নিচু জাতির হিন্দুরা যদি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন, তবে তাঁদের অনগ্রসর মুসলিম হিসেবে গণ্য করে ওবিসি সংরক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অন্যায্য বলে খারিজ করে দিয়েছে।
বিচারপতিরা সাফ জানিয়েছেন, কেউ পিছিয়ে পড়া হিন্দু সমাজ থেকে মুসলিম হলে তিনি শুধুই মুসলিম হিসেবে গণ্য হবেন, তাঁকে কোনোভাবেই অনগ্রসর মুসলিম তালিকায় ঢোকানো যাবে না। আসলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা আর সংরক্ষণের লোভ দেখিয়ে যে ধর্মান্তকরণের এক গভীর চক্রান্ত চলে, আদালতের এই রায় তাতে এক বিরাট বড় চাবুক মারল। এই একই নোংরা তোষণের রাজনীতি আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেছি আমাদের এই বাংলাতেও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে বাংলার প্রায় সমগ্র মুসলিম সমাজকে ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় এনে প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু ভাই-বোনদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যোগ্যদের বঞ্চিত করে স্রেফ বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মন জুগিয়ে চলার এই যে ক্ষতিকারক সংস্কৃতি তৃণমূল তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলার বলিষ্ঠ জননেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ভারতীয় জনতা পার্টি।
শুভেন্দু অধিকারী বারবার সোচ্চার হয়েছেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেশের সংবিধান কোনোদিন সমর্থন করে না এবং তোষণের নামে এই ধরণের অসাংবিধানিক কারবার বাংলায় আর চলতে দেওয়া হবে না। মোদী সরকার এবং সুভেন্দু অধিকারীর সেই নীতি যে কতটা সঠিক ও দূরদর্শী ছিল, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই রায় আজ দেশবাসীর সামনে তা ধ্রুবতারার মতো স্পষ্ট করে দিল।
যখন একদিকে বিরোধী দলগুলি নিজেদের আখের গোছাতে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে, তখন বিজেপি সরকার দেশের সংবিধানের মর্যাদা এবং আদি অনগ্রসর শ্রেণীর প্রকৃত অধিকার রক্ষা করতে অবিচল রয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায় তোষণের রাজনীতি করা দলগুলোর মুখে এক সজোরে থাপ্পড়, যা প্রমাণ করে দেয় যে চক্রান্ত করে দেশের মূল আইনকে কোনোভাবেই খাটো করা যায় না। এখন সময় এসেছে বাংলার বুকেও এই অন্যায় ওবিসি সংরক্ষণের পুনর্বিবেচনা করার, যাতে তোষণের রাজনীতি ধুয়ে মুছে গিয়ে প্রকৃত যোগ্য মানুষেরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পান।
