Annapurna Bhandar is not for merrymaking

ফুর্তি করার জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয় ! লক্ষ্মী ভাণ্ডারে দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়ালেন দাবাং দিলীপ !

“ফূর্তি করার জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়, অসৎ উপায়ে নেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা এবার সুদ সমেত ফেরত দিতে হবে!”—খড়গপুরের সভা থেকে চোর ও জালিয়াতিদের উদ্দেশ্যে এমনই এক ব্রহ্মবাণ ছুঁড়লেন রাজ্যের দাপুটে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই যেমনটা কথা দেওয়া হয়েছিল, ঠিক তেমনই প্রকৃত গরিব ও যোগ্য মানুষদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে শুরু হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। কিন্তু এতদিন যারা তৃণমূলের হাত ধরে দু-নম্বরি করে সরকারি টাকা লুটেছেন, তাদের কপালে এবার কী দুঃখ নাচছে? কাদের দিতে হবে টাকা ফেরত? আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই বা কী মেগা সুখবর দিলেন?
বিগত তৃণমূল জমানায় সরকারি প্রকল্পের টাকাকে স্রেফ খয়রাতি আর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে পরিণত করা হয়েছিল। যোগ্য-অযোগ্য বিচার না করে পিসি-ভাইপোর সরকার যাকে খুশি টাকা বিলিয়েছে। খড়গপুরের মঞ্চ থেকে সেই নোংরা তোষণ নীতিকে তীব্র আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার… সবাই পেয়ে যাচ্ছে! ডাক্তারের বউ পেয়ে যাচ্ছে, মাস্টারের বউ পেয়ে যাচ্ছে। কেন দেবে তাদেরকে? পান খাওয়ার জন্য, বিউটি পার্লার যাওয়ার জন্য? সব বন্ধ হবে!” দিলীপবাবু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বড়লোক আর প্রভাবশালীদের বিলাসিতা করার জন্য জনগণের টাকা অপচয় করা আর চলবে না। এবার প্রতিটা ভুয়ো প্রাপককে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহলে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নিয়ম কী? এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “তেরো পাতার ফর্ম এসেছে। কঠিন কিছু নয়। বাড়ির সবার তথ্য চাওয়া হয়েছে। বেশি লেখাপড়া নয়, ওটা দেখতে হবে, টিক মারতে হবে।” মন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, যাকে এই টাকা দেওয়া হচ্ছে, সরকার জানতে চায় সে লোকটা কে? তার আসল ইনকাম কত? তার সম্পত্তি কত আছে এবং ব্যাংকে কত টাকা রয়েছে? অর্থাৎ, যার আসলেও প্রয়োজন, যে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন, টাকা কেবল তিনিই পাবেন। কোনো দু-নম্বরি বা জালিয়াতির জায়গা এই নতুন সরকারে নেই।
দিলীপ ঘোষের এই কড়া বার্তার পাশাপাশি বাংলার মা-বোনেদের সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করতে আসরে নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুজী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এবার খোদ সরকারি কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করে দিয়ে আসবেন! মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, “অনেক জায়গায় পুরুষরা পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যেই গ্রেফতারও হয়েছে।” শুভেন্দুজী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এতদিন বাংলায় দলের সরকার চলত, কিন্তু আমাদের সরকার হলো জনগণের সরকার।” আর সেই কারণেই আগামী বুধবার থেকেই প্রথম পর্যায়ে মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা পাঠানো শুরু হয়ে যাবে!
তৃণমূলের জমানায় যে সরকারি টাকা চোরদের পকেটে যেত, আজ মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারে তা সরাসরি প্রকৃত প্রাপকের হাতে পৌঁছাতে চলেছে। তিন মাস ধরে এই ফর্ম পূরণের কাজ চলবে, তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। চোরদের দিন শেষ, এবার শুরু হলো সততা ও সুশাসনের ‘অন্নপূর্ণা’ যুগ!
আপনার কী মনে হয়? বড়লোক, মাস্টারের বউ বা ডাক্তারের বউদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত গরিব মা-বোনেদের ৩,০০০ টাকা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কি একদম সঠিক? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *