ধর্মের নামে সাধারণ মানুষের রাস্তা আটকে রাখা এবং ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের অধিকার খর্ব করা—তৃণমূলের এই চেনা তোষণ রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার এক চরম আইনি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহী খান! প্রগতি ময়দান থানায় খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল বিধায়ক তথা খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ আহমেদ খান এবং কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দায়ের হলো গুরুতর এফআইআর (FIR)। অভিযোগ অত্যন্ত মারাত্মক—রেড রোডে ঈদের নামাজের নামে কেবল সাধারণ মানুষের চলাচলই বন্ধ করা হয়নি, বরং ইসলামের পবিত্র কোরানের নিয়মও লঙ্ঘন করা হয়েছে! কী সেই অভিযোগ? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন এই মুসলিম নেত্রী?
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার অন্যতম সক্রিয় মুখ এবং নারী অধিকার আন্দোলনের পরিচিত কণ্ঠস্বর নাজিয়া ইলাহী খান তৃণমূলের দ্বিচারিতাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা—ইসলাম বা কোরান কখনোই নারীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা বলে না। কিন্তু রেড রোডে খিলাফত কমিটির এই নামাজে পুরুষদের যে বিশাল ভিড় করা হয়, সেখানে কোনো মহিলার যাওয়ার অনুমতি থাকে না। নাজিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, যে উৎসবে নারীদের সমান অধিকার নেই, তাকে ইসলামসম্মত বলা যায় কীভাবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন মহিলা নেত্রী কীভাবে বছরের পর বছর ধরে নারীদের এভাবে বঞ্চিত করার এই আয়োজনকে মদত দিয়ে আসছেন? অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। কলকাতার বুকে রেড রোডের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক রোডকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। নাজিয়া ইলাহী খান তাঁর অভিযোগপত্রে স্পষ্ট লিখেছেন, রাস্তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ব্যবহারের জন্য নয়, তা সকল নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাচলের জন্য। একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব ছিল সমস্ত নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তিনি স্রেফ একপেশে তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে কলকাতার লাইফলাইনকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন এবং শহরে একটি সাম্প্রদায়িক ভীতি ও বিভেদের পরিবেশ তৈরি করেছেন।
নিজে একজন মুসলিম মহিলা হওয়া সত্ত্বেও এ রাজ্যে কীভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিকার হতে হয়েছে, তার এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন নাজিয়া। এর আগে বিখ্যাত টিপু সুলতান মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে খোদ মুসলিম মৌলবাদীদের দ্বারা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে! নিজের ধর্মস্থানে ঢোকার অধিকারের জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি নামাজ পড়েন। আজ যখন খোদ রাজ্য প্রশাসনের ছায়ায় খিলাফত কমিটি এই অনিয়ম চালাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের কষ্ট আর ধর্মের অপব্যবহার রুখতেই এই এফআইআর।
বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাস্তা কখনো ধর্মের রাজনীতির আখড়া হতে পারে না। যদি কোরানের নিয়ম মানতেই হয়, তবে সেখানে মহিলাদেরও সমান অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, অন্যথায় তা স্রেফ পলিটিক্যাল স্টান্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দীর্ঘদিনের তোষণ নীতি আজ বাংলার বিচারব্যবস্থা আর সাধারণ মানুষের রায়ের সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।
রেড রোডের নামাজ নিয়ে বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহী খানের এই আইনি পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে আপনার কী মনে হয়? কমেন্ট জানাতে ভুলবেন না ।