কথায় বলে, “পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না”। এই যেমন বাংলার কোটি কোটি মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই মানুষের ওপরই খড়গ-হস্ত হয়েছে তৃণমূল সরকার। বিশেষ করে বাংলার তফসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের যেভাবে দশকের পর দশক ধরে অপমান আর বঞ্চনা করা হয়েছে, তার এবার হিসাব নেওয়ার দিন চলে এসেছে। আর এই কারণেই একটি ভাইরাল ভিডিও-তে তফশিলি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘অশোভন’ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলো ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউলড কাস্টস তথা NCSC।
অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রচারে এক জনসভায় তফশিলি সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লাগে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন। আর তারপরই বিষয়টি নজরে আসতেই মামলা রুজু করেছে জাতীয় তফশিলি কমিশন। ফলত এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করে কমিশন সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের DGP-র কাছে রিপোর্ট চেয়ে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর যদি তা জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করে দিল্লির সদর দফতরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হতে পারে।
এদিকে NCSC স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলায় তফসিলিদের ওপর হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের জবাব মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে। ফলে দ্বিতীয় দফার দোরগোড়ায় বেজায় বিপাকে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো যে, প্রথম দফার ভোটের পর বাংলায় যে হাওয়া বইছে, তাতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে বাংলার দলিত সমাজ এবার একজোট হয়ে পদ্মফুলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ, সর্বত্রই মানুষ আর তৃণমূলের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভুলছে না। আর এই হারের আতঙ্ক থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো এমন আক্রমণ করছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের কথায়, মমতার এই রণমূর্তি আসলে তার দুর্বলতার লক্ষণ। তিনি বুঝে গেছেন, EVM-এ যেমন মানুষ জবাব দিচ্ছে, তেমনি আইনি পথেও তার পাপের হিসেব শুরু হয়ে গেছে।
প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে আসছেন, বাংলার দলিতদের ওপর বিন্দুমাত্র আঁচ পড়লেও দিল্লি চুপ করে বসে থাকবে না। আর এই মামলা তারই প্রতিফলন। বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই হবে তফসিলিদের জন্য আলাদা উন্নয়ন পর্ষদ, সঠিক সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা। এদিকে শুভেন্দু অধিকারী থেকে সুকান্ত মজুমদার, বাংলার প্রতিটি বিজেপি নেতা রাজপথে লড়ছেন যাতে তফসিলিদের সম্মান পুনরুদ্ধার করা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন হয়তো পুলিশ দিয়ে এই লড়াই থামিয়ে দেবেন, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন যে আইনের হাত অনেক লম্বা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার যে দায়বদ্ধতা ছিল, তা তিনি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সেই ব্যর্থতার খেসারত তাকেই এবার দিতে হবে। আর এই মামলার জেরে বাংলার বঞ্চিত মানুষের মনে নতুন আশা জেগেছে। তবে, এই মামলার জল কত দূর গড়ায় তা তো সময়েই জানা যাবে।
