বঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একেক দিনে দুই থেকে তিনটি সভাও করছেন। বক্তৃতায় শান দিচ্ছেন। নতুন নতুন স্লোগান তুলে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আরও একটা বিষয় নজর কেড়েছে। বক্তৃতা শুরুর আগে প্রায় প্রত্যেক জনসভায় উপস্থিত খুদে শিল্পীদের হাতে আঁকা ছবি সংগ্রহ করছেন। আর সেই ছবি গুলোর পিছনে তাঁদের নাম-ঠিকানা লিখে দিতে বলছেন। একইসঙ্গে তাদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এবার সেই খুদে শিল্পীদের কাছে চিঠি পাঠালেন নরেন্দ্র মোদী। চিঠিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁদের হাতের কাজের প্রশংসা করেছেন।
ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে একটি জনসভায় আপনার কাছ থেকে সুন্দরভাবে আঁকা একটি পোট্রেট পেয়ে আমি অত্যন্ত উৎসাহিত। আপনার কাজে যে প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠা ফুটে উঠেছে, আমি তার আন্তরিক প্রশংসা করি। আপনার মতো মানুষের স্নেহ এবং উষ্ণতা আমার উপর গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এটি একটি প্রগতিশীল নতুন ভারত এবং আমাদের তরুণদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার আমার প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হল মেধা এবং সৃজনশীলতার এক সমৃদ্ধ মিশ্রণ, যেখানে সাহিত্য, সঙ্গীত, থিয়েটার এবং চিত্রকলা আধুনিক ভারতীয় চিন্তাধারাকে রূপ দিয়েছে।আপনার আত্মবিশ্বাসী তুলির টান এবং খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ এক অসাধারণ শৈল্পিক প্রতিভার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের তরুণদের মধ্যে এই ধরনের সৃজনশীলতা দেখে আমি গর্বিত এবং আশাবাদী। আপনার ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। আপনার নরেন্দ্র মোদী। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের এক তরুণী শিল্পীকে এমনটাই লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয় বাংলার এরকম অনেক শিল্পী প্রধানমন্ত্রী থেকে কৃতজ্ঞতা পত্র পেয়েছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর যে ছবি এঁকে উপহার দিয়েছিলেন, সেই ছবির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই চিঠিগুলি শিল্পীদের পাঠিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
কেউ মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা, কেউ আবার শিলিগুড়ির বাসিন্দা। শিলিগুড়ির জনসভা থেকেই গোটা ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সমাজের তরুণ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁদের প্রচেষ্টা ও ভালবাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া এই খুদে শিল্পীদের আরও উৎসাহ দেবে। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই উদ্যোগের মধ্যে শুধু মানবিক স্পর্শই নয়, রয়েছে রাজনৈতিক বার্তাও। বাংলায় নির্বাচনের আবহে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি আবেগের সংযোগ তৈরি করতে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও প্রথমবারের ভোটারদের কাছে এই ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে, একটি ছোট্ট চিঠি এখন বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
