যোগী-হিমন্তের সাথে এবার সর্বোচ্চ তালিকায় যোগ হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু !

বিজেপির অন্দরমহলে কি এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সাংগঠনিক পরিবর্তনের সলতে পাকানো শুরু হয়েছে? এক এমন সিদ্ধান্ত, যা দলের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণের পুরো কৌশলকেই বদলে দিতে পারে! দীর্ঘদিনের পুরনো ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সমীকরণ ভেঙে, জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী মঞ্চে এবার একসাথে যুক্ত হতে চলেছে চার রাজ্যের চার হেভিওয়েট মুখ। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন তোড়জোড় আর কোন চার মহারথীর নাম নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় দিল্লির রাজনীতি?

রাজধানীর ক্ষমতার অলিন্দে এখন জোর চর্চা— বিজেপির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা, অর্থাৎ ‘পার্লামেন্টারি বোর্ডে’ আনতে চলেছে এক মেগা রদবদল। নতুন জাতীয় সভাপতি নীতি-নির্ধারণ ও সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতেই দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে উঠে এসেছে চারজন প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। সূত্রের খবর, এই তালিকায় যেমন রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিস, তেমনই নাম রয়েছে আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সবচেয়ে পাওয়ারফুল বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মঞ্চ হলো এই পার্লামেন্টারি বোর্ড। জাতীয় রাজনৈতিক কৌশল তৈরি, নির্বাচনী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠনের নীল নকশা— সব বড় সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি থাকে এই বোর্ডের হাতেই। এতদিন ধরে চলা চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী, পদে আসীন কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে এই বোর্ডে রাখা নিয়ে খানিকটা দ্বিধা ছিল, যাতে ‘স্বার্থের সংঘাত’ কিংবা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। কিন্তু বর্তমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজ্য স্তরের বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্রীয় নীতি তৈরিতে সরাসরি কাজে লাগাতেই এবার সেই পুরনো ছক ভাঙার ভাবনা শুরু হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার জোড়া ফলায় যোগী আদিত্যনাথের বিপুল প্রভাব, মহারাষ্ট্রের জটিল রাজনীতিতে দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সংগঠন সামলানোর ক্ষমতা, উত্তর-পূর্ব ভারতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজনৈতিক চমক এবং বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে সরকার গড়ার শুভেন্দু অধিকারীর অভিজ্ঞতা— এই চার শক্তিকে এক সুতোয় বেঁধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করাই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিলমোহরের জন্য কেন্দ্র ও সংবিধানসম্মত অনুমোদনের অপেক্ষা থাকলেও, বিজেপির সর্বোচ্চ বোর্ডে এই চার মুখ্যমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি যে আগামী দিনের রাজনীতিকে এক নতুন দিক নির্দেশ দেবে— তা এক প্রকার নিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *