শারদোৎসবের ঠিক মুখে মুখেই কি এক বিরাট বড়সড় নিরাপত্তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে বাংলায়? সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে গোপন আস্তানা তৈরি এবং একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দিলেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। রবিবার জগদ্দলে আয়োজিত একটি প্রাক-উৎসব অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে একশ্রেণির অসাধু চক্রকে গোপনে মদত জোগানো হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গকে একপ্রকার ‘সেফ প্যাসেজ’ বানানোর চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের অভিযোগের তীর মূলত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ও বেশ কিছু খারিজি মাদ্রাসার দিকে। তাঁর দাবি, এই সমস্ত গোপন ঘাঁটিগুলোতে অপরাধী ও বিতর্কিত সংগঠনগুলো শিকড় ছড়াচ্ছে, যার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপে সামনে এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে। অর্জুন সিং সাফ জানিয়েছেন— উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে বড় ধরনের গোলমাল বাধানো এবং বিজেপির শীর্ষ সারির হেভিওয়েট নেতাদের ওপর হামলা চালানোর ছক কষা হচ্ছে। ইতিপূর্বে শুভেন্দু অধিকারীর ওপরেও এমন হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
হঠাৎ কেন এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ্য এনেছেন তিনি? এর নেপথ্যে কি কোনো কেন্দ্রীয় ইনপুট রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান— কোনো নির্দিষ্ট এবং স্পর্শকাতর খবর না থাকলে গত কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন বারবার বাংলায় আসবেন? নিরাপত্তার স্বার্থে সব তথ্য জনসমক্ষে আনা না গেলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পেছনে যে গভীর প্রশাসনিক কারণ রয়েছে— তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
শুধু সীমান্তই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই ক্যাম্পাসের একটি বিশেষ অংশকে ‘দিমাগী নকশাল’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান— যারা দেশের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মগজধোলাই করে বিভ্রান্ত করছে, তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং এদের রুখতে নেওয়া হবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ। উৎসবের আনন্দের মাঝেই মন্ত্রীর এই শানিত বক্তব্য বঙ্গ রাজনীতি ও প্রশাসনের অন্দরমহলে এক নতুন উদ্বেগের ঝড় তুলে দিয়েছে।
