সেখানে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে এক মহিলা ফুটপাতেই দুধ গরম করছিলেন। সেই দৃশ্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অগ্নিমিত্রা পাল। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, ব্যস্ত রাস্তার পাশে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করা শুধু ফুটপাত দখলের বিষয় নয়, এটি শিশুর নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক। এখানেই থামেননি মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি দখলদারি ও তোলাবাজির কারণে শহরের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার শহরকে যানজটমুক্ত ও সুন্দর করতে এবং অনলাইন পার্কিংয়ের মতো আধুনিক ব্যবস্থা আনতে চাইছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেই উদ্যোগের বিরোধিতা করে তৃণমূল ও সিপিএম ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে।
অগ্নিমিত্রার আরও প্রশ্ন, অপারেশন সানশাইনের সময় সিপিএমের মানবিক মুখ কোথায় ছিল? তবে বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে সতর্ক শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি দেখে অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে কথা বলবেন। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কুণালের যুক্তি, ফুটপাতে থাকা মানুষরা শখ করে সেখানে থাকেন না। শিশুকে নিয়ে ফুটপাতে দুধ গরম করাও তাঁদের পছন্দের জীবন নয়।
ফুটপাত কি শুধু হাঁটার রাস্তা? নাকি শহরের অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়ও? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ শহরকে দখলমুক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনই ফুটপাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও পুনর্বাসনের প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। শহরের যানজট, ফুটপাত দখল, হকারদের জীবিকা এবং গরিব মানুষের পুনর্বাসন—সবকটি প্রশ্নই যেন এসে মিশেছে এই ঘটনাকে ঘিরে।
