কলকাতার সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে সাফল্য পাওয়ার পর, এবার রাজ্যের একাধিক জেলার মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনকে। রাজ্য সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহর ও শহরতলীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পুষ্টিকর নিরামিষ খাবার পৌঁছে দেবে ইসকনের অধীনস্থ সংস্থা ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’।
সম্প্রতি রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে— বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম ১ ও নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের একাধিক স্কুলে পর্যায়ক্রমে এই পরিষেবা চালু করা হবে। গত ১১ই জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সার্বিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে এবং পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে সেই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই কলকাতার প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সম্পূর্ণ নিরামিষ ও স্বাস্থ্যেজ্জ্বল খাবার পরিবেশন করছে ইসকন। তবে মিড-ডে মিলের পুরো দায়িত্ব ইসকনকে হস্তান্তর করা নিয়ে গোড়ার দিকে কিছুটা রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের প্রধান প্রশ্ন ছিল— ইসকনের নিরামিষ মেনুর কারণে পড়ুয়ারা কি তবে প্রোটিন ও ডিম থেকে বঞ্চিত হবে? এছাড়া এতদিন ধরে রান্নার কাজে যুক্ত থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বহু রাঁধুনি কাজ হারানোর আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
তবে সমস্ত আশঙ্কার মেঘ কাটিয়ে রাজ্য প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সমাধান করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন— ইসকন তাঁদের নির্দিষ্ট নিরামিষ খাবার সরবরাহ করবে, কিন্তু তার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আলাদাভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের ডিম প্রদান করা হবে। এতে পড়ুয়াদের পুষ্টির সাথে কোনো আপস যেমন করা হচ্ছে না, তেমনই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোনো রাঁধুনিও কাজ হারাবেন না। ফলে সমস্ত আইনি ও সামাজিক জট কাটিয়ে এবার জেলাগুলোর স্কুলেও ইসকনের তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার পৌঁছাতে চলেছে।
