বাংলার ভোট নিয়ে বেশ ব্যস্ত বিজেপি। তাই বাকি ৪ রাজ্যের থেকেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। যদিও আর একদিন পরই প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হবে। আর এই আবহে রাজ্যে পা রাখলেন ভারতের সবচেয়ে ছোটো বিধায়ক তথা বিহারের অলিনগরের বিজেপি বিধায়ক মৈথিলী ঠাকুর। তার সুমধুর কণ্ঠের ভোজপুরি, মৈথিলী এবং আওয়াধি-সহ একাধিক ভাষার গান মানুষের মন জয় করেছে। এবার তিনি বাংলায় এসে পানিহাটি থেকে অশোকনগর—একাধিক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে প্রচার সারলেন। যদিও তিনিই প্রথম নন, এর আগেও বহু ভিন রাজ্যের নেতা-মন্ত্রী বঙ্গ সফরে এসেছেন। যে তালিকায় দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকলেরই নাম রয়েছে।
এদিন বিজেপির অন্যতম প্রেস্টিজ ফাইটের কেন্দ্র পানিহাটি বিধানসভার প্রার্থী তথা অভয়ার মায়ের সঙ্গে প্রচারে নামতে দেখা যায় তাকে। আর সেখান থেকেই কনিষ্ঠতম বিধায়ক বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন মায়ের এই সাহস সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। তাই শুধু সারা বাংলার নয়, বরং গোটা দেশের প্রতিটি নারী, প্রতিটি ভারতীয় আজ তার সঙ্গে রয়েছেন। কারণ আরজি করের সেই ঘটনা সকলের মনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই ভারতের প্রতিটি মানুষ চায় সেই ঘটনার হৃদয় বিদারক ঘটনার সঠিক বিচার হোক এবং সুরক্ষার পরিবেশ বাংলায় বজায় থাকুক।
মৈথিলী ঠাকুর আরও বলেন, বর্তমানে বাংলার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দেশের মধ্যে থেকেও বন্দে মাতরম বলতে সংকোচ বোধ করতে হয়। তাই পশ্চিমবঙ্গ যাতে বাংলাদেশ না হয়ে যায়, সেই কারণে সাধারণ মানুষকে এক কাট্টা হওয়ার ডাক দিয়েছেন সংগীতশিল্পী। তার দাবি, বাংলার সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বকে বাঁচাতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা দরকার। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যতই মমতা দিদি নারী সুরক্ষার বুলি আওড়ান না কেন, বাংলায় আজও মায়েরা-মেয়েরা নিরাপদ নয়। আর এর জন্যই ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, নয়তো নিরাপত্তা কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাবে বলে মত তার। আসলেই, মৈথিলী ঠাকুরের মতো তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা যখন সুদূর বিহার থেকে এসে এই লড়াইয়ে অংশ নেন, তখন তা প্রমাণ করে যে ন্যায়ের কোনো সীমানা নেই।
অতীত ঘাঁটলে এটা সত্যি যে, বাংলার মাটি চিরকাল প্রতিবাদের মাটি। তাই এই মাটি অন্যায়কে সহ্য করে না, আর সেই প্রতিবাদের আগুনই আজ পানিহাটির মানুষের মনে জ্বলছে। ভোটাধিকার সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ ওই EVM-এর বোতাম শুধু একটি দলকে নয়, বরং একটি আদর্শকে বেছে নিতে সাহায্য করে। তাই বিজেপি প্রার্থীদের দাবি একটাই, বিচার পেতে দেরি হলেও ন্যায়ের জয় হবেই। অবশ্য রত্না দেবনাথের প্রচারের জনজোয়ার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে পানিহাটি পরিবর্তনের জন্য তৈরি। তবে, সবশেষে জয়ের হাসি কে হাসে, তা অবশ্য সময়েই বোঝা যাবে।
