আর মাত্র দু’দিন পরেই শুরু হতে চলেছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। একদিকে সভা, অন্যদিকে জনসংযোগ—ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।
শনিবার হুগলির পাণ্ডুয়ায় তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীর সমর্থনে নির্বাচনী সভা করতে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা ঘিরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই সামনে এল বড়সড় নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ।
অভিযোগ, সভাস্থলের মূল গেটের পাশে নিজের টোটো দাঁড় করিয়ে রেখে সভায় গিয়েছিলেন আশিষ হাওলাদার নামে এক টোটোচালক। তাঁর একটাই ইচ্ছে ছিল—সামনাসামনি একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা, আর কাছ থেকে দেখা তাঁর হেলিকপ্টার। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে সভা থেকে বেরিয়ে এসে আশিষ দেখেন, যেখানে টোটো রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে আর কিছুই নেই। চোখের সামনে থেকে উধাও হয়ে গেছে তাঁর একমাত্র রোজগারের সম্বল।
ঘটনার পরই সভায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাছে অভিযোগ জানান আশিষ। পুলিশ তাঁকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়। শনিবার সন্ধ্যাতেই পাণ্ডুয়া থানায় টোটো চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় কার্যত ভেঙে পড়েছেন আশিষ। তাঁর কাকা গৌতম হাওলাদার জানিয়েছেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে আশিষ। প্রায় ছ’মাস আগে কিস্তিতে এই টোটো কিনেছিলেন তিনি। এখনও সেই কিস্তির টাকা শোধ করতে হচ্ছে। আর সেই টোটোই ছিল সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা।
পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে টোটো উদ্ধার করুক পুলিশ। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এত বড় রাজনৈতিক সভায় পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না।পাণ্ডুয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টোটো চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সভাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশিষ হাওলাদারের সঙ্গেও বিস্তারিত কথা বলছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজনৈতিক সভায় চুরির অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগে আসানসোলে বিজেপির এক জনসভা থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কর্মীর মোবাইল চুরি যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছিল। পরে মোবাইল উদ্ধারের দাবিতে হিরাপুর থানার সামনে বিক্ষোভেও বসেন বিজেপি কর্মীরা।
এখন দেখার, পাণ্ডুয়ার এই টোটো চুরির ঘটনায় পুলিশ কত দ্রুত তদন্তে অগ্রগতি আনে, আর আশিষ তাঁর হারিয়ে যাওয়া রোজগারের সম্বল ফিরে পান কি না।
