হেভিওয়েট ১০ প্রার্থীকে ঘিরে উত্তেজনা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই ভোটে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে বিজেপির মহিলা প্রার্থীদের উপস্থিতি। একদিকে Mamata Banerjee-র দীর্ঘদিনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, অন্যদিকে নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি তাদের মহিলা প্রার্থীদের মাঠে নামিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই প্রার্থীরা শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও পরিচিতির জোরেও ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
এই নির্বাচনে বিজেপির যে ১০ জন মহিলা প্রার্থী সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন, তাঁদের ঘিরেই তৈরি হয়েছে আলাদা উত্তেজনা।
প্রথমেই আসা যাক পানিহাটি কেন্দ্রের কথায়। এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রত্না দেবনাথ। তিনি মূলত একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজ্যে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠেন। সেই আবেগ ও জনসমর্থনকে পুঁজি করেই তিনি এবার ভোটের ময়দানে নেমেছেন। গত কয়েক বছরে এই কেন্দ্রে বিজেপির ভোটের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে তাঁর লড়াই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপির অন্যতম বড় মুখ অভিনেত্রী Roopa Ganguly। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং তারকা পরিচিতি তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। প্রচারে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো, এবং তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনেও সফল হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
টালিগঞ্জ কেন্দ্রে আবার অন্য চিত্র। এখানে তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নির্বাচনী লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
যাদবপুরে বিজেপির প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এই কেন্দ্র ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, ফলে এখানে লড়াই সবসময়ই কঠিন। তৃণমূল ও বামফ্রন্ট—দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে তাঁকে, তবে প্রচারে তাঁর উপস্থিতি ইতিমধ্যেই নজর কাড়ছে।
হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী রেখা পাত্র। সন্দেশখালি আন্দোলনের সময় তিনি অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। সেই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ তাঁর বড় সম্পদ। যদিও আগের লোকসভা নির্বাচনে তিনি জয় পাননি, তবুও এইবার বিধানসভা নির্বাচনে নতুন করে লড়াই শুরু করেছেন।
আসানসোল দক্ষিণে বিজেপির শক্তিশালী মুখ Agnimitra Paul। আগের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছিলেন এবং গত পাঁচ বছরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। ফলে এই কেন্দ্রে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।
এন্টালি কেন্দ্রে আবার প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। আগেরবারও তিনি লড়েছিলেন এবং এইবারও একই কেন্দ্রে নিজের জায়গা আরও শক্ত করতে চাইছেন। আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থেকেছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিকে বাড়িয়েছে।
বাঁকুড়ার শালতোড়া কেন্দ্রে বিজেপির অন্যতম বড় শক্তি চন্দনা বাউড়ি। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। জঙ্গলমহলে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট, এবং এই এলাকায় বিজেপির সংগঠন মজবুত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বারুইপুর পূর্বে প্রার্থী টুম্পা সর্দার। পেশায় গৃহশিক্ষক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত টুম্পা সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কাজ তাঁকে এই কেন্দ্রে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সবশেষে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী ড. শতরূপা। উচ্চশিক্ষিত এবং বুদ্ধিজীবী মহলে পরিচিত এই প্রার্থী নিজের যুক্তি ও বক্তব্য দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এই কেন্দ্র বরাবরই হাই-প্রোফাইল, ফলে লড়াইও যথেষ্ট কঠিন।
সব মিলিয়ে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই মহিলা প্রার্থীরা শুধু প্রতীকী উপস্থিতি নয়, বরং বাস্তব লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। কেউ নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রাম দিয়ে, কেউ তারকা পরিচিতি দিয়ে, আবার কেউ সংগঠনের শক্তি দিয়ে ভোটের ময়দান জমিয়ে তুলেছেন।
ফলাফল যাই হোক না কেন, এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মহিলা নেতৃত্বের এই উত্থান নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
