ভোটের মুখে ‘নারীর সুরক্ষা’ আর ‘সুশাসনের’ হাজারো গালভরা বুলি আউড়ে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টি -র আসল মুখটা মাত্র ১০০ দিনেই খসে পড়ল! ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের শততম দিন পূর্ণ হতে না হতেই রাজ্যজুড়ে শুধুই হাহাকার, আতঙ্ক আর অপরাধীদের বেলাগাম তাণ্ডব। নারী নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে হাতিয়ার করে যারা গদিতে বসল, তাদেরই জমানায় আজ বাংলার মহিলারা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারীদের তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হতে না হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর অরাজকতা, আতঙ্ক আর অপরাধীদের বেলাগাম দাপট। যে নারী নির্যাতনকে অস্ত্র বানিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে বিজেপি গদিতে বসল, তাদেরই ছায়াতলে আজ বাংলার সাধারণ মহিলারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
শাসককুলের হাজারো ঢাকঢোল পিটিয়ে ঢাকাই প্রচার আর ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও থানার জেনারেল ডায়েরি এবং নথিপত্র কিন্তু মিথ্যা কথা বলছে না। কেবল পূর্ব বর্ধমান জেলার বিগত ১০০ দিনের খতিয়ান দেখলেই মেরুদণ্ড শিউরে ওঠে— এই স্বল্প সময়ের মধ্যে কেবল এই একটি জেলাতেই অন্তত ১০ জন নারী পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন! তার ওপর জোড়া ঘটনা ঘটেছে দলবেঁধে বা গণধর্ষণের। খতিয়ান এখানেই শেষ নয়; এই ১০০ দিনে ৩ জন নাবালিকা ও কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে, শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে ৫ জন অসহায় মহিলাকে। উপরন্তু রাজনৈতিক অরাজকতা ও অপরাধের বলি হয়ে খুন হয়েছেন ৩ জন নারীসহ মোট ৪ জন মানুষ।
বীরভূমের একই পরিবারের ৩ জন সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনাটি এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। অভিযোগ, স্বামীর চোখের সামনেই তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বর্বরোচিতভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হলেও, বিগত সাত দিনেও অভিযুক্তদের ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি পুলিশ-প্রশাসন। দেওয়ানদিঘী, জামালপুর, ভাতার কিংবা খণ্ডঘোষ— জেলার সর্বত্রই প্রতিদিন কোনো না কোনো নারী শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। ভাতারে ওষুধ কিনতে বেরোনো ১১ বছরের অবুঝ নাবালিকার শ্লীলতাহানি হোক কিংবা খণ্ডঘোষে ছাগল চড়াতে যাওয়া গৃহবধূর ওপর হামলা— অপরাধীরা যেন ধরে নিয়েছে, নতুন জমানায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা সম্পূর্ণ পার পেয়ে যাবে।
তৃণমূলের তোলাবাজি আর দুর্নীতির জবাব দিতেই রাজ্যবাসী পরিবর্তনের হাওয়া এনেছিলেন। কিন্তু আজ ১০০ দিনের মাথায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ মর্মান্তিকভাবে উপলব্ধি করছেন— এক অপশাসনের বদলে ঘাড়ে চেপে বসেছে আরও এক চূড়ান্ত বর্বর অপশাসন! মোদী-শুভেন্দুদের প্রতিশ্রুতি যে স্রেফ জুমলা আর ক্ষমতার মসনদে বসার ভাঁওতাবাজি ছিল, তা আজ স্পষ্ট। রাজ্যের নারীদের কাছে এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ আসলে অপরাধীদের সুরক্ষার ইঞ্জিন হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি যেভাবে তৈরি হচ্ছে, তাতে বিজেপি নেতৃত্বকে খুব শীঘ্রই বাংলার জাগ্রত জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে।
