প্রতিটি ওয়ার্ডে মা-বোনেদের নিয়ে অন্নপূর্ণা বাহিনী’ গড়ার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

অন্নপূর্ণা বাহিনী গঠন হবে রাজ্যে। কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে মা-বোনেদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরি করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বাংলায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই শক্তির বিরুদ্ধে নারীশক্তিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? অবশ্য নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলেননি তিনি। শুভেন্দুর বার্তা, প্রতিটি ওয়ার্ডে তৈরি করতে হবে অন্নপূর্ণা বাহিনী। এই বাহিনী যেন রাজ্য সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে। মাতঙ্গিনী হাজরা, রানি রাসমণি কিংবা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বীরাঙ্গনার উদাহরণ টেনে নারীশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা নয়, মহিলাদের উপর কোনও অত্যাচার বা অবিচার হলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ অন্নপূর্ণা বাহিনীর সম্ভাব্য কাজের পরিধি শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যোগ্য মহিলারা পাচ্ছেন কি না, তা নজরে রাখা নয়—মহিলাদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে এলাকায় অশান্তি রুখতেও এই বাহিনীকে ভূমিকা নিতে বলেছেন তিনি।

অগস্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ইতিমধ্যেই ঢুকে গিয়েছে বহু মহিলার একাউন্টে। সরকারের দাবি, প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। আগামী ২০ অগস্টের মধ্যে অনুমোদিত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছনোর কথা। কিন্তু এখানেই অন্নপূর্ণা বাহিনীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামনে এসেছে। যোগ্য মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কি না, আবার অযোগ্য কেউ তালিকায় রয়েছেন কি না—সেটাও চিহ্নিত করার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে তাঁদের। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকার নতুন হওয়ায় তালিকায় কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। সেই ভুল সংশোধনের জন্যই মাঠপর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন।

এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারও শুরু করেছে বিজেপি। দলের সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিটি ব্লকে ‘অভিনন্দন মিছিল’ করা হবে। সেই মিছিলের সামনের সারিতে থাকবেন মহিলারা। দলীয় স্তরে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নিয়ে সম্মেলন করতে হবে। এমনকি যাঁরা টাকা পেয়েছেন, তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *