MLA The sight of Birbhum in this ‘Bengal of Change’ is a feast for the eyes.

ছেলে বিধায়ক হলেও বাবা আজও চালান মুদি দোকান! ‘বদলের বাংলা’য় বীরভূমের এই ছবি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে।

কথায় আছে, ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি মানুষকে রাতারাতি বদলে দেয়। রাজনীতির আঙিনায় পা রেখে ছোটখাটো পদ পেলেই যেখানে অনেকেরই চালচলন আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, সেখানে বাংলার বুকে এক চরম ব্যতিক্রমী নজির গড়ে তুললেন সাঁইথিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা এবং তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা আনন্দমোহন সাহা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটেছে। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার ফুটেছে পদ্মফুল। তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির কৃষ্ণকান্তবাবু। কিন্তু ছেলে ‘এমএলএ’ হয়ে যাওয়ার পরেও, তাঁর বাবার দৈনন্দিন জীবনে বিন্দুমাত্র বিলাসিতা বা অহংকার স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি আজও বীরভূমের এক বাসস্ট্যান্ডের পাশে নিজের অতি সাধারণ মুদি দোকানে বসে ঘাম ঝরাচ্ছেন! ক্ষমতার এই যুগে দাঁড়িয়ে পিতা-পুত্রের এই সরল জীবন কীভাবে মন জয় করে নিল গোটা বাংলার? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

বীরভূমের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের ঠিক পাশেই আনন্দমোহন সাহার বাড়ি এবং বাড়ির নিচেই রয়েছে তাঁর বংশপরম্পরার পুরনো মুদিখানা ও চায়ের দোকান। এই দোকান চালিয়েই বছরের পর বছর ধরে সততার সাথে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। ছেলে আজ রাজধর্ম পালন করতে বিধানসভায় পৌঁছে গেলেও, বাবা কিন্তু নিজের কর্মধর্ম ত্যাগ করতে নারাজ। ক্ষমতার অলিন্দে না হেঁটে তিনি বেছে নিয়েছেন কঠোর পরিশ্রমের জীবন। এই বিষয়ে যখন এক সংবাদমাধ্যমের তরফে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি যা বললেন, তা বর্তমান যুগের যেকোনো রাজনৈতিক নেতার চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

গর্বিত পিতা আনন্দমোহনবাবু অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান— “ছেলে তো এখন আর আমার একার নয়, সে এখন পুরো সাঁইথিয়ার জনগণের!” সাধারণ মানুষের সেবা করা এবং দেশের কাজ করার জন্যই ছেলে আজ বিধায়ক হয়েছে। তাই নিজের পুরনো পেশা বা রুটিরুজি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঁর মনে আসেনি।

বিধায়কের বাবার সেই আবেগঘন বার্তা:

জনগণের সেবক: “আমার একটাই স্বপ্ন, ও যেন সবসময় সাধারণ মানুষ আর খেটে খাওয়া মানুষের উপকারে লাগে।”
কঠোর পরিশ্রমের ফল: “ছেলে আজ প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে দিনরাত এক করে মানুষের জন্য পরিশ্রম করেছে। আজ সে নিজের সততা ও ত্যাগের ফল পেয়েছে।”

শুধু বাবাই নন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে সাঁইথিয়ার নতুন বিধায়ক কৃষ্ণকান্তবাবু নিজেও একদম তাঁর বাবার মতোই মাটির মানুষ। বিপুল জয়ের পরেও ক্ষমতার দম্ভ বা অহংকার তাঁকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি। সুখ হোক বা দুঃখ—যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি সবসময় এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। বর্তমান সময়ে যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসে, সেখানে ‘বদলের বাংলা’য় এই পিতা-পুত্র জুটি সততা, বিনম্রতা ও প্রকৃত জনসেবার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন।

ভিআইপি সংস্কৃতির দাপট এবং দাদাগিরির চেনা সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলে, বাংলার রাজনীতিতে এমন সৎ ও মাটির মানুষদের আগমন সত্যিই এক নতুন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। আনন্দমোহনবাবুর মতো বাবারা এবং কৃষ্ণকান্তবাবুর মতো শিক্ষণীয় জনপ্রতিনিধিরাই পারেন বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।

ছেলে বিধায়ক হওয়ার পরেও আনন্দমোহন বাবুর এই সততার সাথে মুদি দোকান চালানো এবং এই পিতা-পুত্রের সরল জীবনধারাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত অবশ্যই জানান।west

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *