শরতে তুলোর মতো মেঘ আর শিউলির গন্ধে তিলোত্তমার বাতাসে যখন শারদোৎসবের আগমনী সুর, ঠিক তখনই কলকাতার পুজো মানচিত্রে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ইতিহাস রচিত হতে চলেছে! থিমের দৌড়ে শহরের বড় বড় পুজো ক্লাবগুলোকে পেছনে ফেলে এবার খাস কলকাতার বুকে এমন এক পুজোমণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, যার চর্চা পৌঁছে গিয়েছে সরাসরি রাইসিনা হিলস আর প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের রুবি মোড়ে আয়োজিত হিন্দু মহাসভার দুর্গাপূজায় এবার প্রধান থিম— কাঁথির ঘরের ছেলে ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার সেই রূপকথা! থিমের পোশাকি নাম রাখা হয়েছে— ‘নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন: বুবাইয়ের জয়যাত্রা’।
এই অনন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবের উন্মাদনা এখন চরমে। উদ্যোক্তা তথা অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা সম্প্রতি উড়ে গিয়েছিলেন রাজধানী নয়াদিল্লিতে। সেখানে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুজোর বিশেষ আমন্ত্রণপত্র। আর সেই আমন্ত্রণের পরেই আসে মেগা সারপ্রাইজ! প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি ফোন করে এবং রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে লিখিত চিঠি পাঠিয়ে এই অভিনব উদ্যোগের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের কাছে।
কিন্তু শারদোৎসবের পবিত্র প্রাঙ্গণে কেন এমন থিম? উদ্যোক্তারা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন— ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পুণ্যভূমি এই পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার এক খাঁটি সনাতনী, জাতীয়তাবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার কাণ্ডারী জনগণের নিজের মানুষ শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং বাংলার নবজাগরণকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।
মণ্ডপসজ্জায় থাকবে তাক লাগানো চমক। কাঁথির শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ থেকে নন্দীগ্রামের রক্তাক্ত জমি আন্দোলন, ভবানীপুরের ময়দানে মহাযুদ্ধ থেকে নবান্নের মসনদ জয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দুর্লভ ছবি, ঐতিহাসিক নথি এবং ব্যানারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপজুড়ে। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হবে একটি তথ্যবহুল শর্ট ফিল্ম বা ডকুমেন্টারি, যেখানে সাধারণ মানুষ দেখতে পাবেন এক লড়াকু নেতার অদম্য সংকল্পের বাস্তব রূপরেখা।
চমকের এখানেই শেষ নয়! এই মণ্ডপে পা রাখা প্রতিটি সাধারণ নাগরিক যাতে সরাসরি তাঁদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজস্ব মতামত, শুভেচ্ছা বা স্লোগান পাঠাতে পারেন, তার জন্য থাকবে বিশেষ প্রশাসনিক ও ডিজিটাল ড্রপবক্সের ব্যবস্থা। উদ্যোক্তারাই সেই সমস্ত বার্তা সংকলন করে পৌঁছে দেবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। এই পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, মন্ত্রী ও বিধায়কদের পাশাপাশি বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর পিতা তথা প্রবীণ সাংসদ শিশির অধিকারী এবং তাঁর মাতাকে। সব মিলিয়ে, ভক্তি ও জাতীয়তাবাদের অনন্য মেলবন্ধনে রুবি মোড়ের এই পুজো এবার তিলোত্তমার সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে চলেছে।
