নাম না করে একসময় সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের আশ্রয় পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একই সাথে আদি বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি দাবি করলেন, তৃণমূল থেকে সুযোগসন্ধানী ‘গাদ্দার’দের দলে টেনে নেওয়ার মাশুল গুণতে হবে গেরুয়া শিবিরকে, এবং সামনেই তাদের ঘোর দুর্দিন আসতে চলেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কুণাল ঘোষ অত্যন্ত চাঁচাছোলা ও কড়া ভাষায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি শিবিরকে কার্যত ধুয়ে দেন।
শুভেন্দু অধিকারী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসূত্রকে উদ্দেশ্য করে কুণাল ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “অ্যাই তথাকথিত বিরোধী দলনেতা, এই চাটন ঋত—ও তো অভিষেকেরই কোলে বসে থাকতো। পাশে সিট না থাকলে চেয়ারের হ্যান্ডেলে বসে থাকতো! একটা অকৃতজ্ঞতারও তো সীমা থাকে। যাদের মুখে পুরো দাড়ি ওঠে না, তাদের এই একটা সমস্যা হয়। গালে পুরো দাড়ি থাকলে একটা সুষ্ঠু ভারসাম্য থাকে। খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওঠা এই অদ্ভুত দেখতে প্রাণীদের এরকম একটা সমস্যা হয়। রাস্তার পাড়ার একটা নেড়ি কুকুরকে বিস্কুট দিলেও অন্তত সে কামড়ায় না!”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থান ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করিয়ে তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা জানান, সিপিএম থেকে লাথি খাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে আশ্রয় ও প্রটেকশন দিয়েছিলেন। সরকারি কমিটি, দু-দুবার রাজ্যসভা, বিধানসভার মনোনয়ন এবং আইএনটিটিইউসি-র সভাপতির পদ—সবই অভিষেকের দেওয়া। আজকে বিজেপির কাছে ভালো সাজতে গিয়ে যিনি অভিষেকের সমালোচনা করছেন, তাঁর কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
ঋতব্রতের কটাক্ষের জবাবে কুণাল বাবু আরও যোগ করেন, “রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। যেদিন ঋত কোর্টে গিয়ে হলফনামা দিয়ে বলবে, ‘আমি আজ হইতে আর বালিশ চাটিবো না’, সেদিন তার সাথে যোগাযোগ করতে বা কথা বলতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।”
একই সাথে বিজেপি ও আরএসএস (RSS)-কে তোপ দেগে কুণাল বলেন, “নতুন প্রজন্ম বা Gen Z মধ্যযুগে ফিরে যেতে চায় না। তারা রোটি, কাপড়া আর মকান নিশ্চিত করে গ্লোবাল ভিলেজের গর্বিত সদস্য হতে চায়। আরএসএস এখন নতুন প্রজন্মের মন জয় করতে বিভ্রান্তিকর নীতি নিয়ে নামছে।”
সবশেষে আদি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আপনারা একসময় পার্টি অফিসে বসে ভিডিও ছেড়েছিলেন, তারাই আজ বিজেপির মাথায় গিয়ে বসেছে! দিল্লির নেতাদের স্বার্থে আজ গ্রাসরুটের আদি বিজেপিকে বলি দেওয়া হচ্ছে। সারদা-নারদায় অভিযুক্তদের পাশে বসিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহরা ছবি তুলছেন। তৃণমূল থেকে আবর্জনা আর বেনোজল নিয়ে বিজেপি নিজেদের ঘাড়েই বোঝা বাড়াচ্ছে। তাই আদি বিজেপি কর্মীদের সামনে এখন ঘোরতর দুর্দিন আসতে চলেছে।কুণালের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ঋতব্রত ও বিজেপি শিবির কী জবাব দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
