আবাস যোজনা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। অযোগ্য হয়েও যাঁরা আবাস যোজনার টাকা নিয়েছেন, এবার তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুধু টাকা ফেরত নেওয়াই নয়, প্রয়োজনে অযোগ্য উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আবাস যোজনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
আবাস যোজনায় নতুন করে ১৮ লক্ষ ৬৬ হাজার উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তিতে প্রত্যেক উপভোক্তা পাবেন ৬০ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, যোগ্য উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করার জন্য এবার বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জনকে দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের আমলে আবাস যোজনায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র ১২ লক্ষ মানুষ দুই কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন।
এরপর নতুন সরকার সেই তালিকা ধরে ফের সমীক্ষা চালায়। সেই সমীক্ষায় যোগ্য এবং অযোগ্য উপভোক্তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করার কাজ করা হয়। সমীক্ষার পরে দেখা যায়, বাকি থাকা প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের সেই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর বাকি প্রায় ৮ লক্ষ উপভোক্তাকে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তবে আবাস যোজনার টাকা বণ্টনের পাশাপাশি উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সমীক্ষায় এমন ১২ হাজার ৫০০ জন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যাঁরা নিয়ম অনুযায়ী আবাস যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। অথচ তাঁদের কেউ সম্পূর্ণ, আবার কেউ আংশিকভাবে আবাস যোজনার টাকা পেয়ে গিয়েছেন। এবার সেই টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ওই অযোগ্য উপভোক্তাদের টাকা ফেরতের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুধু নোটিসেই থেমে থাকছে না সরকার। প্রায় ১ হাজার জনের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আর যাঁরা টাকা ফেরত দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ আবাস যোজনার টাকা বণ্টনে অযোগ্যদের ক্ষেত্রে এবার কড়া অবস্থান নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি SIR নিয়েও আবাস যোজনা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। মন্ত্রী দাবি করেছেন, SIR-এর সময় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৫৭ হাজার জন আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁরাও এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রেও টাকা ফেরত নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, আবাস খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। অর্থাৎ একদিকে নতুন করে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অযোগ্যদের দেওয়া টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও চালানো হচ্ছে। আর এই আবাস প্রকল্পের ক্ষেত্রেই এসেছে আরও একটি বড় পরিবর্তন। এখন থেকে আবাস যোজনার নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা নামে পরিচিত হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে একদিকে নতুন উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া, অন্যদিকে পুরনো তালিকা যাচাই করে অযোগ্যদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া—দুই দিকেই একসঙ্গে পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার।
