“হিন্দুস্তান, আমাদের বাঁচান!”পাক সেনার নারকীয় অত্যাচারের মুখে ভারতের কাছে সাহায্য প্রার্থনা বালোচ কিশোরীর !

পাকিস্তানের আগ্রাসন, নির্মম বর্বরতা আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিষাক্ত শৃঙ্খলে পিষ্ট হতে হতে আজ রক্তাক্ত গোটা বালোচিস্তান! যে ভূখণ্ডকে জোর করে নিজেদের সামরিক বুটের তলায় পিষে রেখেছিল ইসলামাবাদ, সেখানে আজ মুক্তির আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। বালোচ বিদ্রোহীদের লাগাতার প্রত্যাঘাতে ইতিমধ্যে বালোচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পাকিস্তানি সেনার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে শুরু করে বালোচিস্তানের আনাচে-কানাচে প্রতিদিন গুঁড়িয়ে যাচ্ছে পাক ফৌজের ঘাঁটি, প্রাণ হারাচ্ছে শয়ে শয়ে পাকিস্তানি জওয়ান। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বীরত্বের সামনে টিকতে না পেরে চরম কাপুরুষের মতো সাধারণ, নিরস্ত্র বালোচ নাগরিকদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা নামিয়ে এনেছে পাক সামরিক জান্তা! আর সেই নারকীয় নরকযন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এবার বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র তথা মহাশক্তি ভারতের দরবারে হাতজোড় করে বুকফাটা আর্তনাদ জানাল এক ১৪ বছরের বালোচ কিশোরী!

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে ভারতের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছে সমাজকর্মী কিশোরী ফারাহ বালোচ। নিজের মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপাকাঁপা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে ফারাহ বলেছে— “আমি পাকিস্তানি সেনার দ্বারা অবৈধভাবে অধিকৃত বালোচিস্তানের কন্যা ফারাহ বালোচ। আজ চরম বিপন্নতার মুখে দাঁড়িয়ে আমি ও আমার মা ভারতের প্রতিটি নাগরিকের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ জানাচ্ছি— আপনারা আমাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন! পাকিস্তানি সেনার নির্মম অত্যাচারে আজ বালোচিস্তানের মানুষ নিঃস্ব, রক্তাক্ত। হিন্দুস্তান, দয়া করে আমাদের বাঁচান! বালোচিস্তানের কণ্ঠহীন মানুষদের পাশে দাঁড়াতে আপনাদের একটি সমর্থন, একটি আওয়াজ আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফারাহর এই করুণ আর্তি আসলে বালোচিস্তানের ঘরে ঘরে চলা সেই নারকীয় গণহত্যারই এক জলজ্যান্ত প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সমস্ত নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘরে ঢুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বালোচ যুবকদের, ধর্ষণ ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন মা-বোনেরা। ১৯৪৭-এর পর থেকে এই অবৈধ দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শুধুমাত্র বালোচিস্তানের মাটিতেই লক্ষাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং গুম করে দিয়েছে হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামীকে।

আজ যখন কোণঠাসা পাকিস্তানের অর্থনীতি দেউলিয়া, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে তাদের সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার মুখে, তখন নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে তারা বালোচিস্তানের বুক চিরে চালাচ্ছে শেষ রক্তচক্ষুর খেলা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী— ১৯৭১ সালে ঠিক এই ধরনের বর্বরোচিত গণহত্যার জবাব দিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অহংকার ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। আজ আবার যখন বালোচিস্তানের নিষ্পাপ এক কন্যার মুখ থেকে ধ্বনিত হচ্ছে ‘হিন্দুস্তান, আমাদের বাঁচান’— তখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ইসলামাবাদের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। অত্যাচারী পাকিস্তানের এই বর্বরতার দিন যে শেষ হতে চলেছে এবং বালোচদের এই কান্না যে বৃথা যাবে না, ফারাহ বালোচের বার্তা যেন গোটা বিশ্বকে সেই নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *