mithun-suvendu

“আমি প্রতিমন্ত্রী নই, ‘সতিমন্ত্রী’!” আয়ুষ্মান ভারতের মঞ্চে মিঠুনের এমন রসালো মন্তব্যে হাসিতে ফেটে পড়েন শুভেন্দু!

রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠান। মঞ্চে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ একঝাঁক শীর্ষ মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক। তবে গাম্ভীর্যে ভরা সেই প্রশাসনিক অনুষ্ঠান এক লহমায় পরিণত হলো হাসির সাগরে এবং তার মূল কাণ্ডারী আর কেউ নন, স্বয়ং ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। মাইক হাতে নিয়েই তিনি এমন রসালো ছন্দে বক্তব্য শুরু করলেন যে, পাশে বসে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সভাগৃহে উপস্থিত প্রতিটা মানুষের মুখেই তখন চওড়া হাসির রেখা।

মঞ্চে বসা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দিকে তাকিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মিঠুন চক্রবর্তী বলে ওঠেন— এত সব গুণী মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীর ভিড়ে হঠাৎ ভাবছিলাম আমি ঠিক কে? নিজেকেই প্রশ্ন করে জবাব পেলাম— আমি আসলে একজন ‘সতিমন্ত্রী’! কারণ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্যতা তো আমার নেই! মহাগুরুর এই এক লাইনের কৌতুকে গোটা সভা জুড়ে মুহূর্তের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ হিসেবে সম্বোধন করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে নিজের পুরোনো লড়াইয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন তিনি।

মিঠুন চক্রবর্তী দাবি করেন, এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তিনি অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন জনসভায় প্রচার চালিয়েছেন। তখন সাধারণ মানুষ তাঁকে বলতেন— দাদা, কার্ড বানিয়ে কী হবে, তৎকালীন রাজ্য সরকার তো তা কার্যকর হতে দিচ্ছে না! জবাবে মিঠুন তাঁদের বলতেন— রাজ্য ব্যান করেছে তো কী হয়েছে, আমাদের কেন্দ্রীয় মিলিটারি হাসপাতাল ও রেলের হাসপাতাল তো রয়েছে, সেখানে গিয়ে সুযোগ নিন! অনেক জায়গায় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে এই কার্ড তৈরি করে দিয়েছেন বলেও জানান।

ভাষণের একদম শেষলগ্নে এসে ফাঁকা মাঠে গোল হাঁকালেন মহাগুরু! দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে হেসে বলেন— আমি জানি আপনারা আমার এসব ভালো ভালো কথার বদলে ডায়লগ শোনার জন্য মুখিয়ে আছেন! তবে এটা সেই রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, তাই ডায়লগ বলব না! কিন্তু প্রতিশ্রুতি রাখা যে মহাগুরুর পক্ষে অসম্ভব, তা প্রমাণিত হলো ঠিক পরের মুহূর্তেই! বাজখাই গলায় পুরো হল কাঁপিয়ে তিনি হাঁকালেন সেই বিখ্যাত ডায়লগ— “আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই, আমি জাত গোখরো, এক ছোবলে ছবি!” ডায়লগ শেষ করেই চওড়া হেসে স্মরণের স্মৃতি উসকে দিয়ে বললেন— আগে তো এই ডায়লগটা বলার জন্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল, তাই আজ আরও জোর গলায় বললাম! আর তাতেই করতালি আর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো সভাগৃহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *