ভোট শেষ হতে না হতেই বাংলায় এবার চরম রাজনৈতিক বিয়োগান্তক নাটক! দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাংলায় সিন্ডিকেট, কাটমানি আর স্বৈরাচারী রাজত্ব চালানো তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বই এবার বিপন্ন। ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভেঙে তছনছ হয়ে গেল তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো। এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ছোট-বড় সমস্ত কমিটি এবং পদ একঝটকায় অবলুপ্ত করে দেওয়া হলো। আর এই মেগা ভাঙনের জেরে পদ হারালেন খোদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! ক্ষমতার দম্ভ দেখানো সেই তথাকথিত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদটিই আর রইল না তাঁর। পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির এই চরম দেউলিযাপনার ইনসাইড স্টোরি জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সাধারণ সদস্য পদে নেমে আসেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অল ইন্ডিয়া চেয়ারপার্সন পদের ভবিষ্যৎ কী? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একটি নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি বা চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু তৃণমূল যেভাবে একতরফাভাবে তাদের সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কমিটি ভেঙে দিয়েছে, তাতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদের অস্তিত্ব নিয়েও বড়সড় আইনি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা চলে যেতেই এই ডানপন্থী দলটির অন্দরে আনুগত্যের মুখ পরিবর্তনের খেলা শুরু হয়ে গেছে, যার জেরে পিসির চেয়ারও এখন চরম টলমল!
যাঁরা এতদিন বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করতেন, পুলিশকে পকেটে নিয়ে ঘুরতেন, আজ তাঁদের নিজেদের দলেই কোনো পদের অস্তিত্ব নেই। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পতন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরেই একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছিল যে, ভাইপোর অহংকার আর ভুল রণকৌশলের জন্যই আজ তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভরাডুবি। আর সেই রাগের আগুনে ঘৃতাহূতি পড়তেই রাতারাতি ছেঁটে ফেলা হলো ভাইপোর ডানা। যে নেতা নিজেকে বাংলার অঘোষিত সম্রাট মনে করতেন, আজ তিনি তৃণমূলের একজন অতি সাধারণ মেম্বার ছাড়া আর কিছুই নন! লড়াইটা শুধু শীর্ষ স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, তৃণমূলের যতগুলি গণসংগঠন ছিল—সব কটি আজ এক ঝটকায় সাফ হয়ে গেছে! তৃণমূল ছাত্র পরিষদ , যুব তৃণমূল, আইএনটিটিইউসি এবং মহিলা কংগ্রেসের মতো সমস্ত ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশনের প্রতিটা পদ একযোগে অবলুপ্ত করা হয়েছে। রাজ্য স্তর থেকে শুরু করে জেলা স্তর পর্যন্ত যত সেক্রেটারি, প্রেসিডেন্ট এবং পদাধিকারী ছিলেন, তাঁরা সবাই আজ এক লহমায় ‘প্রাক্তন’ হয়ে গেছেন। তোলাবাজি আর দুর্নীতির আখড়া হয়ে ওঠা এই উইংগুলি ভেঙে আসলে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
ক্ষমতার মধু ফুরিয়ে যেতেই তৃণমূলের এই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এদের কোনো আদর্শ ছিল না—ছিল শুধু লুটের সাম্রাজ্য। পিসি-ভাইপোর এই পতন বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন, স্বচ্ছ ও তোষণমুক্ত অধ্যায়ের সূচনা করছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নজিরবিহীন পদ খোয়ানো এবং তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ভেঙে যাওয়া নিয়ে আপনার কী মনে হয়? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।
