নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিরোধী দলনেতার ভূমিকায়। বিধানসভায় প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই তিনি কার্যত পুরনো নেতৃত্ব কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর দাবি, অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কোনো সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক—এটা কি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ, নাকি নতুন ক্ষমতা-সমীকরণের ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঋতব্রতের বক্তব্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল নে=তৃত্ব কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান। তিনি সরাসরি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জাল নথি সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি এখন স্পিকারের বিচারাধীন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, অভিষেকের জনতার সঙ্গে দূরত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে ঘিরে তৃণমূলের একাংশ একে ‘দলবিরোধী প্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে এক অন্য জায়গায়। বারবার নাম এসেছে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর।
ঋতব্রত স্পষ্টভাবে বলেছেন, নব্য তৃণমূল তাঁকে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চায়। অর্থাৎ নেতৃত্বে নয়, বরং গাইড হিসেবে রাখতে চায় তাঁকে। এই বক্তব্যেই রাজনৈতিক মহল দুই ভাগে বিভক্ত। একপক্ষ বলছে, এটি মমতাকে সরিয়ে না দিয়েও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা। অন্যপক্ষের মতে, এটি দলের ভিতরেই নতুন কেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া।
ঋতব্রতের দাবি অনুযায়ী, নব্য তৃণমূলের ৫৯ জন বিধায়ক মমতাকে নেত্রী হিসেবে মানলেও দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের পক্ষে। এই বক্তব্য কার্যত একটি নতুন প্রশ্ন তুলেছে, তৃণমূল কি আদৌ একক নেতৃত্বে চলছে, নাকি এখন বহু-কেন্দ্রিক ক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে? অন্যদিকে দলের একাংশ এই পুরো ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য “বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন” ছাড়া আর কিছু নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাব্য পথে এগোতে পারে, প্রথমত, দল যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে এটি একটি সাময়িক বিদ্রোহ হিসেবে থেমে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, যদি এই মতবিরোধ গভীর হয়, তবে নব্য ও পুরনো গোষ্ঠীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিভাজন তৈরি হতে পারে।তৃতীয়ত, সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো, নতুন রাজনৈতিক ব্লক বা ছায়া সংগঠন গড়ে ওঠা, যা পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিকে নতুন রূপ দিতে পারে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, এটা কি সত্যিই “নতুন তৃণমূল”-এর জন্ম, নাকি পুরনো তৃণমূলের ভেতরেই আরেকটি লড়াইয়ের অধ্যায়? রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, আর তার কেন্দ্রেই এখন নেতৃত্ব, আনুগত্য এবং ভবিষ্যতের ক্ষমতার সমীকরণ।
