It is under the sheer dominance of the BJP's 'SIR' that Mamata Banerjee's invincible fortress will crumble!

বিজেপির SIR-এর দাপটেই ধসে পড়বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ!

চলছে ভোট পূজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ফলে প্রচারের ময়দানে যেমনভাবে সম্ভব বিপক্ষের দলকে তোপ দাগছেন প্রার্থী থেকে দলের অন্যান্য নেতা-মন্ত্রী সকলেই। যার মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় টপিক হয়ে উঠেছে SIR। হ্যাঁ, ভোটার তালিকার সংশোধনী প্রক্রিয়াকে নিজেদের হাতিয়ার করে তুলতে চাইছে শাসক থেকে বিরোধী সকলেই। এদিকে সমীক্ষা বলছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার কেন্দ্রগুলিতে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে SIR। ফলে শাসক শিবিরের এক প্রকার ঘুম উড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর কলকাতার১১টি আসনের ১১টি-ই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। এমনকি, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ দু’টিতেই তৃণমূল জয়ী হয়েছিল। কিন্তু এবার SIR সেই হিসেব বদলে দিতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আসলে সংশোধনীর পর উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা, সমীকরণ পুরো বদলে গিয়েছে। কারণ মানুষ আর শুধু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দিয়ে সন্তুষ্ট নয়, তারা চায় শিল্প আর সুরক্ষা। আর ঠিক এই জায়গাতেই বাজিমাত করছে বিজেপি। এদিকে হিন্দিভাষী এবং বনেদি বাঙালি প্রধান এলাকা তথা জোড়াসাঁকো ও শ্যামপুকুরের মতো এলাকাগুলিতে মোদী ম্যাজিক আর CAA-র সঠিক ব্যাখ্যা মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে। খাস মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতেও এবার বিজেপি সিঁদ কাটছে। শিক্ষিত যুব সমাজ যারা কর্মসংস্থানের অভাবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, তারা এবার বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে বেছে নিচ্ছে। সেই সঙ্গে গত উপ-নির্বাচনের ক্ষত ভুলে এবার এককাট্টা হচ্ছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এই আবহে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছেন, কলকাতায় হাজার হাজার ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যারা তৃণমূলের প্রধান শক্তি। ফলত, এই SIR-এর মাধ্যমে সেই ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়া রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, SIR-এর মাধ্যমে বাদ পড়া আসনগুলির বেশিরভাগ-ই তৃণমূলের। কারণ যাদের নাম বাদ গেছে তাদের অধিকাংশই মহিলা, নয়তো মুসলিম এবং গরীব ভোটার। আবার তৃণমূলের এক নেতাও তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন SIR-এর নামে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে কোপ মেরেছে। ফলে বিষয়টি কোথাও গিয়ে যেন দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে-ই গিয়েছে! রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৮০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে কলকাতার চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র মনে ভবানীপুরে এই নাম বাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। পাশাপাশি কলকাতার তিনটি আসনে ৭০ হাজার এবং দুটি আসনে প্রায় ৫০ হাজার নাম বাদ গেছে। জানলে অবাক হবেন, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল প্রার্থীকে ভবানীপুর আসন থেকেই ৮ হাজারেরও বেশি লিড দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত এবারে সেই ভোটারগুলির উপরই কোপ পড়েছে। আর সে কারণেই রিপট বলছে, রাসবিহারী, ভবানীপুর, চৌরঙ্গী, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়াতে ফুটবে পদ্ম।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, সাধারণ মানুষ এখন একদিকে দুর্নীতির পাহাড় আর অন্যদিকে বিজেপির উন্নয়নের মডেল দেখছে। যার জন্য বিজেপি এবার স্লোগান দিচ্ছে, “কলকাতা হোক উন্নয়নের রাজধানী, দুর্নীতির নয়।” সেই সঙ্গে মেট্রো প্রকল্পের দ্রুত কাজ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা—মানুষ এসবের মাধ্যমে আরও বুঝতে পারছে ডবল ইঞ্জিন সরকার ছাড়া বাংলার আর কোনো গতি নেই। তাই কলকাতার শিক্ষিত সমাজ এখন বিজেপির IT সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের সাথে এক মত পোষণ করছে। ফলে বিজেপি এখন আর শুধু বড় সভায় আটকে নেই। বরং, RSS এবং বিজেপির নিচুতলার কর্মীরাও এবার পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। তারা SIR ফ্যাক্টর বুঝিয়ে বলছে, যা আমজনতার মনে নিশ্চয়তা প্রদান করছে। ফলে আসন্ন ভোটে প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। যদিও SIR-এ বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেলেও তৃণমূলের হাতেই কলকাতা থাকবে বলেই দাবি করছেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা। তবে, তাদের এই আশ্বাস বাস্তবে রূপ পাবে কিনা তা তো ৪ঠা মে জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *