পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই বিজেপির বুথ স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই বৈঠকেই দিলেন ছ’টি বড় দাওয়াই। দিল্লিতে বসে ওই কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মঙ্গলবার বৈঠক করেন মোদী। বাছাই করা পাঁচ কর্মীর থেকে শোনেন পরামর্শ। তার পরে রাজ্যে ভোটে জেতার জন্য তিনিও দেন পরামর্শ। বিজেপি সূত্রে খবর, আগে থেকেই কর্মীদের বলা হয়, কোনও পরামর্শ থাকলে তা যেন নমো অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সেই পরামর্শ দেখে নির্বাচিত পাঁচ জনের সঙ্গে কথা বলেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে বৈঠক। বৈঠকে কি পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী? চলুন দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।
মোদির ৬ পরামর্শ!
প্রথম দাওয়াই— বুথে আরও বেশি জোর। মোদীর বার্তা, “সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন বুথকে। বাড়ি বাড়ি যান, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, বিজেপির ইস্তাহার আর চার্জশিট পৌঁছে দিন ভোটারের কাছে।”
দ্বিতীয় দাওয়াই— মহিলা আর যুব সমাজকে টার্গেট। মোদী বলেন, “মহিলাদের সঙ্গে ছোট ছোট বৈঠক করুন। সন্দেশখালি, আরজি কর, ল’কলেজ— এই ঘটনাগুলো মানুষের মনে করিয়ে দিন। আর বোঝান, বিজেপির ইস্তাহারে মহিলাদের আর যুবকদের জন্য কী কী প্রতিশ্রুতি রয়েছে।”
তৃতীয় দাওয়াই— রাজ্যে কেন শিল্প হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলুন। মোদীর দাবি, “ভয়ের পরিবেশ আর হিংসার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা আসছে না। তাই যুবকদের কাজের জন্য ভিন্রাজ্যে যেতে হচ্ছে।”
চতুর্থ দাওয়াই— মতুয়া আর নমশূদ্রদের কাছে পৌঁছনো। মোদী কর্মীদের বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান, সিএএ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তৃণমূল যা বলছে, তা বিশ্বাস না করতে।”
পঞ্চম দাওয়াই— শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। মোদীর কথায়, “জয়ের ব্যবধান যত বাড়বে, পশ্চিমবঙ্গ তত স্বস্তি পাবে।”
আর ষষ্ঠ দাওয়াই— কৃষক আর আলুচাষিদের কাছে যান। মোদীর অভিযোগ, “যে চাষি ফসল ফলাচ্ছেন, তিনি দাম পাচ্ছেন না। কিন্তু মাঝখানের সিন্ডিকেটই লাভ করছে।”
সবশেষে মোদীর বার্তা— বিজেপির ‘ছ’টি গ্যারান্টি’ই এখন কর্মীদের রোডম্যাপ। বিজেপি সূত্রে খবর, কর্মীদের নিজের এলাকায় যে অপরাধ ঘটেছে, তার তালিকা তৈরি করতে বলেছেন মোদী। লোকের কাছে সেই তালিকা তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, মানুষকে বোঝাতে হবে, যে ‘অপরাধীদের মাথায় তৃণমূলের আশীর্বাদ’ রয়েছে। থানাতেও গুন্ডারা বসে রয়েছে। ভোটারদের সে সবই বোঝাতে হবে। আর সেই রোডম্যাপ নিয়েই এবার ভোটের ময়দানে নামছে বিজেপি।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে শুধু বুথকর্মীদের চাঙ্গা করাই নয়, ভোটের আগে সংগঠনকে আরও আক্রমণাত্মক বার্তা দিতে চাইলেন মোদী। বিশেষ করে মহিলা, মতুয়া, কৃষক এবং যুব ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখেই বিজেপি এবার প্রচারের রণকৌশল সাজাচ্ছে। বুথ স্তরে সেই বার্তা কতটা পৌঁছয়, আর তার প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
