প্রায় অর্ধশতাব্দী পর পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রাক-প্রাথমিক অর্থাৎ কেজি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত নতুন পাঠক্রম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। এই নতুন পাঠক্রমে ভারতের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। সেই বৈঠকে গত কয়েক দশকের শিক্ষা নীতি ও পাঠ্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতিহাস বইয়ে এতদিন যে মোঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসকে বড় করে পড়ানো হতো, তার গুরুত্ব কমিয়ে কৌটিল্য, সম্রাট অশোক এবং ছত্রপতি শিবাজীর মতো ভারতীয় শাসকদের অবদান ও বীরত্বের কাহিনীকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হতে পারে। এছাড়াও, জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নতুন সিলেবাসে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিকের বক্তব্য, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত ইতিহাস জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, যদুনাথ সরকার, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অবদান পাঠ্যক্রমে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাম আমলে কার্ল মার্ক্সকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রকে উপেক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, নতুন সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। রাজ্যে ধাপে ধাপে গড়ে তোলা হবে পিএম শ্রী স্কুল। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আধুনিক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তাও দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই জায়গায় যোগ্য ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের শিক্ষক নিয়োগ সমস্যার সমাধানে দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাসও দিয়েছে সরকার। এখন প্রশ্ন একটাই—এই নতুন শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রম কি সত্যিই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করবে? নাকি এই পরিবর্তনকে ঘিরে শুরু হবে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক? সেই উত্তর মিলবে আগামী দিনে।
