শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং তোষণের অন্ধকার সরিয়ে স্বচ্ছতার নতুন আলো আনতে এবার এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন! পশ্চিমবঙ্গের বুকে কতগুলি মাদ্রাসা চলছে, সেখানে কী পড়ানো হচ্ছে, আর পরিকাঠামোই বা কেমন—তার নিখুঁত হিসাব বুঝে নিতে এবার অল-আউট সমীক্ষার নির্দেশ দিল শুভেন্দু অধিকারীর ডবল ইঞ্জিন সরকার। স্রেফ নির্দেশ দেওয়াই নয়, এর জন্য জেলাশাসকদের কড়া ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিটি জেলার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা করতে হবে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে। কেন রাতারাতি এই জরুরি নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন? আর এই সমীক্ষায় কোন কোন বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে চলেছে?
নবান্নের জারি করা এই নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যের একটা ব্লক বা পুরসভা এলাকাও এই নিয়মের বাইরে থাকবে না। প্রতিটি জেলাশাসককে তাঁদের নিজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় সশরীরে খতিয়ে দেখতে হবে সমস্ত মাদ্রাসা। তালিকায় যেমন থাকছে সরকারি অনুমোদন বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসা, তেমনই থাকছে সরকারি খাতায় রেজিস্টার্ড কিংবা অনুদানবিহীন প্রতিষ্ঠান। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কোনো সুনির্দিষ্ট সমাজ বা সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত কিংবা সম্পূর্ণ অস্বীকৃত ও আনরেজিস্টার্ড যত মাদ্রাসা রয়েছে, সেগুলিরও প্রতিটা ইঞ্চির হিসাব এবার নবান্নে জমা দিতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো রকম ধোঁয়াশা বা বেনিয়ম যে এই সরকার বরদাস্ত করবে না, এই নির্দেশিকাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জেলাশাসকদের মূলত কোন কোন তথ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে বলা হয়েছে? নির্দেশিকা অনুযায়ী—মাদ্রাসাটি কোন স্তরের, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কতজন ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়ছে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক বা শিক্ষাগত বিন্যাস কেমন, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি মাদ্রাসা ভবন, ক্লাসরুম, পানীয় জল ও শৌচাগারের সামগ্রিক পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হবে। তবে সবচেয়ে কড়া নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে নিয়মের অসঙ্গতি নিয়ে! যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে সামান্যতম বেআইনি কার্যকলাপ বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ে, তবে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর সংশোধনমূলক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত জমানায় যেখানে মাদ্রাসাগুলিকে স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতো, সেখানে বিজেপি সরকার এবার প্রকৃত শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিশাল ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করছে। তবে নবান্নের তরফে স্পষ্ট আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক সংস্কার এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য করা হচ্ছে। কোনো বৈধ ও সৎ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পদক্ষেপ বা কোনো পড়ুয়াকে উচ্ছেদ করার মতো ঘটনা ঘটবে না। প্রকৃত ও দেশপ্রেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ভয়ের কোনো কারণ নেই, কিন্তু যারা নিয়মের তোয়াক্কা না করে আড়ালে অন্য কিছু চালাচ্ছিল, তাদের দিন এবার শেষ!
শিক্ষা ক্ষেত্রে সমতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সুশাসন সুনিশ্চিত করতে শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে গোটা রাজ্য। তোষণের দিন শেষ, এবার বাংলায় চলবে কেবলই যোগ্যতার শাসন!
রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত ও অস্বীকৃত মাদ্রাসার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য খতিয়ে দেখার এই কড়া সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।
