Major steps are being taken with the aim of retaining power.

দেশে এক চেটিয়া জয়ের পর এবার বিরাট পদক্ষেপ গেরুয়া বাহিনীর! ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষে নেওয়া হচ্ছে বিরাট পদক্ষেপ!

 

ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম! এক অভিনব ও মাস্টারস্ট্রোক চাল দিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। দল যত বড় হচ্ছে, শিকড়কে তত বেশি মজবুত করার এক নজিরবিহীন স্ট্র্যাটেজি নিল পদ্ম শিবির। বিজেপির ইতিহাসে সম্পূর্ণ প্রথমবার তৈরি করা হলো একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী পদ, যার নাম—‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক। আর দিল্লির সদর দফতরে বসে এই মেগা পদের দায়িত্ব সামলানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এক অদম্য লড়াকু ও মাটির মানুষকে। সোমবারই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। কে এই নতুন ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’? কেন এই পদের সৃষ্টি এবং এটি কীভাবে বিরোধী শিবিরের ঘুম উড়িয়ে দিল?

আসলে ভারতীয় জনতা পার্টি স্রেফ একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি পরিবার। আর এই পরিবারকে আজকের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন কোটি কোটি প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মীরা। দল যত বড় হচ্ছে, ততই নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি পুরনো দিনের সেই লড়াকু সৈনিকদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সেই অভাবনীয় দূরদর্শিতা থেকেই সৃষ্টি এই ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’ পদের। এর মূল কাজ হবে—দলের পুরনো কর্মী, প্রাক্তন পদাধিকারী এবং পর্দার আড়ালে থাকা দীর্ঘদিনের সংগঠকদের সাথে সরাসরি নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা। নতুন প্রজন্মের তেজ আর প্রবীণদের প্রজ্ঞার মধ্যে এক অভেদ্য সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই হবে এই পদের মূল লক্ষ্য, যা বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দশ গুণ বাড়িয়ে দেবে।

এই ঐতিহাসিক পদের প্রথম চালক হিসেবে যাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি হলেন সুযোগ্য সংগঠক নাগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী। উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরের ‘বেলাউলি’ গ্রামের এক অতি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম এই ব্যক্তিত্বের। কোনো গডফাদার বা রাজপরিবারের সিলমোহর ছাড়াই, স্রেফ নিজের যোগ্যতা আর দেশপ্রেমের জোরে আজ দিল্লির শীর্ষ পদে বসেছেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা RSS এবং এবিভিপি -র একনিষ্ঠ প্রচারক হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এর আগে টানা ৮ বছর উত্তরপ্রদেশে এবং পরবর্তীতে বিহার-ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠন মহাসচিব হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকে দলকে অপরাজেয় করে তুলেছিলেন এই চাণক্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৬-এর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আগে বিজেপির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে অন্যান্য দল নিজের কর্মীদের ওপর ভরসা না পেয়ে ভোটকুশলী ভাড়া করে, সেখানে বিজেপি নিজের কর্মীদের ওপর সর্বোচ্চ ভরসা রাখে। নাগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী এবার রাজ্য জুড়ে ঘুরে ঘুরে প্রবীণ কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন, তাঁদের পরামর্শ সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেবেন এবং প্রতিটা বুথ স্তরের পুরনো কর্মীকে আবারও সক্রিয় করে তুলবেন।

কৃষকপুত্র থেকে দিল্লির ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক’—নাগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর এই পদোন্নতি আবারও প্রমাণ করে দিল যে, বিজেপিতে সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মূল্যায়ন সবার আগে হয়। এই নতুন পদের হাত ধরে আগামী দিনে ভারতের প্রতিটা প্রান্তে পদ্ম ফোটানো এবং অন্ত্যোদয়ের স্বপ্ন পূরণ করা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *