একেই বলে আসল গণতন্ত্র! একেই বলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর লাইভ প্রমাণ! ওদিকে যখন পরিবারতন্ত্রের অহংকারে ভাইপো-দের রাজকীয় পদে বসানো হয়, ঠিক তখন মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারে অন্যের বাড়িতে বাসন মাজা, ঘর মোছা এক পরিচারিকা আজ শপথ নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজি আজ রাজভবনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘স্পেশ্যাল ৩৫’ ক্যাবিনেটের এই সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুন্দর চমকের গল্প শুনলে আপনার চোখেও জল চলে আসবে।
২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে আউশগ্রামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তপশিলি সংরক্ষিত আসনে এক সাধারণ পরিচারিকা কলিতা মাজির ওপর ভরসা রেখেছিল ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। আর দলনেতাদের সেই আস্থার যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই লড়াকু মহিলা। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে এক লড়াইতে ১২,৫৩৫টি বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিধানসভায় পা রেখেছেন কলিতা। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আবেগাপ্লুত কলিতা বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমার মতো এক সাধারণ গরিব মানুষের ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ। আজকের এই ঐতিহাসিক জয় আমি মোদীজীকেই উৎসর্গ করতে চাই।”
গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের এক অতি সাধারণ পরিবারের বাসিন্দা কলিতা মাজি। গত এক দশক ধরে বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে যুক্ত থাকলেও, পেটের টানে দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে হতো তাঁকে। সেখান থেকে মাসে উপার্জন হতো মাত্র ৪,০০০ টাকা! তাঁর স্বামী সুব্রত মাজি পেশায় একজন সামান্য প্লাম্বার এবং একমাত্র ছেলে এবার দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দিয়েছে। ভোটের টিকিট পাওয়ার পর কাজ থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে জান লড়িয়ে প্রচার করেছিলেন কলিতা। আজ তাঁর এই মহাকাব্যিক সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন সেই পরিবারের সদস্যরা, যাঁদের বাড়িতে তিনি এতদিন কাজ করেছেন। কলিতার কথায়, “যাঁদের বাড়িতে আমি এতদিন পরিচারিকার কাজ করেছি, তাঁরা আজ আমায় টিভির পর্দায় মন্ত্রী হতে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন। তাঁরা আমায় প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন।”
নিজে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন বলেই, আউশগ্রামের গরিব মানুষের অভাব-অনটনকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন এই নতুন মন্ত্রী। তাই মন্ত্রী হয়েই এলাকার স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোকে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। আউশগ্রামের মানুষদের সামান্য চিকিৎসার জন্য যাতে বারবার বর্ধমান শহরে ছুটতে না হয়, তার জন্য এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। এর পাশাপাশি পানীয় জল, উন্নত রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সৌরশক্তির ব্যবহার এবং নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে চান তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, বিগত জমানায় চুরি হয়ে যাওয়া ‘প্রধানমন্ত্রীর আবাসন যোজনা’ এবার আউশগ্রামের প্রতিটা গরিবের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চান কলিতা মাজি, যাতে প্রতিটা মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত হয়।
কলিতা মাজির এই মন্ত্রী হওয়া শুধু একটা রাজনৈতিক পদ প্রাপ্তি নয়, এটি বাংলার প্রতিটা প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের সম্মানের লড়াইয়ের জয়। তোষণ আর দুর্নীতির চাদর সরিয়ে মোদী-শুভেন্দুর জমানায় আজ বাংলায় প্রকৃত যোগ্য ও মাটির মানুষেরা শাসনভার বুঝে নিচ্ছেন। সস্তার রাজনীতির দিন শেষ, এবার বাংলায় শুরু হলো আসল সুশাসনের সোনার অধ্যায়!
৪,০০০ টাকা বেতনের পরিচারিকা থেকে আজ পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মন্ত্রী—কলিতা মাজির এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্প নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।
