প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে নিজের পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে আর সাধারণ মানুষকে সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় চক্কর কাটতে হবে না। এবার থেকে সাধারণ উপভোক্তারা অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ঘরে বসে করে নিতে পারবেন ‘আবাস প্লাস সেলফ সার্ভে’। সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে এবং যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরকারি সাহায্য পেতে পারেন, তার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই মেগা ডিজিটাল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সেলফ সার্ভে নিয়ে অভূতপূর্ব উৎসাহ চোখে পড়ছে এবং আজ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ ৩৬ হাজার উপভোক্তা নিজেদের আবেদন সফলভাবে নথিবদ্ধ করেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ডিজিটাল সার্ভে প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি। রাজ্যজুড়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে মালদহ জেলা, যেখানে ৫৫ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, এবং তার পরেই রয়েছে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর। যাঁদের স্থায়ী বা কাঁচা বাড়ি রয়েছে এবং মাথার ওপর শক্ত পাকা ছাদ নেই, তাঁরাই এই অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের এবং পরিবারের যোগ্যতার আবেদন জানাতে পারবেন। এমনকি কোনো ব্যক্তি নিজে স্মার্টফোন চালাতে না পারলে, তিনি তাঁর আত্মীয় বা প্রতিবেশীর সাহায্য নিয়েও এই সার্ভে সম্পন্ন করতে পারেন। ডিজিটাল এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে সাধারণ পদ্ধতিতে আবেদন করার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন করার প্রক্রিয়াটিও রাখা হয়েছে অত্যন্ত সহজ ও সুরক্ষিত। উপভোক্তাদের প্রথমে নিজেদের ফোনে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধার ফেস আরডি’ অ্যাপ দুটি ইনস্টল করে নিতে হবে। এরপর আধার নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করার পর পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, জব কার্ডের তথ্য এবং বর্তমানে থাকা কাঁচা বাড়ি ও ফাঁকা জায়গার ছবি আপলোড করে দিলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। আগামী ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত চলা এই ডিজিটাল সুযোগ গ্রহণ করে রাজ্যের প্রতিটি গৃহহীন ও দুস্থ মানুষের কাছে পাকা বাড়ি পৌঁছে দিতে এই সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ উদ্যোগ সত্যিই এক সুশাসিত ও প্রগতিশীল ভারতের নতুন নজির স্থাপন করল।
