সুটিয়ার প্রতিবাদী আন্দোলনের নির্ভীক নায়ক, অমর শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রকাশ্যে এল এক চরম ও প্রলয়ঙ্করী সত্য। বিগত তৃণমূল জমানার অমানবিকতা ও সত্য ধামাচাপা দেওয়ার নোংরা রাজনীতিকে এক লহমায় ধূলিসাৎ করে এবার সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে বনগাঁ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত এফআইআরের দাবি পেশ করলেন বরুণের লড়াকু সহযোদ্ধা তথা শিক্ষক নন্দদুলাল দাস। ২০১২ সালের ৫ই জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে প্রকাশ্যে গুলি করে বরুণ বিশ্বাসকে হত্যা করার পর থেকে তদন্তের নামে কীভাবে দীর্ঘ ১৪টি বছর প্রহসন চালানো হয়েছিল, তার কঙ্কালসার চিত্র আজ রাজ্যবাসীর সামনে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
অভিযোগপত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ক্যাবিনেট মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সরাসরি মদতেই পুলিশি তদন্তকে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। যে সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করে বরুণ বিশ্বাস সাধারণ মানুষের ভগবান হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর সেই খুনের দায় সিপিএমের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করেছিল তৎকালীন সরকার। উপরন্তু, সত্যের পক্ষে মুখ খোলায় নন্দদুলাল দাসের মতো প্রতিবাদী মানুষদের ক্ষমতার দম্ভে দিনের পর দিন হেনস্থা করা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে এবং অনায়াসে ‘মাওবাদী’ তকমা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী ও তোষণমুখী শাসনের চরম নমুনা এটাই যে, কীভাবে একজন আদর্শবান শিক্ষকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।
তবে বঙ্গে পরিবর্তন আসার পর, বিচারহীনতার সেই কালো দিনগুলো এখন শেষ হতে চলেছে। সুবিচারের শেষ আশায় বরুণ বিশ্বাসের পরিবার সম্প্রতি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে, অনতিবিলম্বে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে শুভেন্দু সরকার। খুনের এই বহুল আলোচিত মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে অভিজ্ঞ আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যা বনগাঁ মহকুমা আদালতে বিচারের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিগত জমানার এই চরম অমানবিকতা, অপশাসন ও প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধ করার নোংরা রাজনীতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলে, অমর শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে এবং সুটিয়ার মাটিতে প্রকৃত সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বলিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্যিই এক উন্নত, ন্যায়পরায়ণ ও আত্মনির্ভর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
