মুকুট মাথায়, হাতে ধনুক-বাণ— একদম শ্রীরামচন্দ্রের পূর্ণ অবয়বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুবিশাল কাটআউট! আর সেই কাটআউটের সামনেই সান্ধ্য আরতির সাথে সাথে সমস্বরে উঠছে “হর হর মোদি”, “জয় জয় মোদি” ধ্বনি। সম্প্রতি দিল্লির প্রেসক্লাব অফ ইন্ডিয়া প্রাঙ্গণের এই বিতর্কিত ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই নিমেষের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ যখন একে ব্যঙ্গ করে ‘মোদি ভগবান’-এর আবির্ভাব বলে কটাক্ষ করছেন, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠছে— একজন নির্বাচিত রাজনীতিবিদকে এভাবে সশরীরে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
কিন্তু এই ভাইরাল নাটকের পেছনের আসল সততা ও তথ্যটা ঠিক কী? অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিতর্কিত অনুষ্ঠানের নেপথ্যে ছিলেন ট্রান্সজেন্ডার বা তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের কিছু বিশিষ্ট সদস্য। ডঃ রাজন সিং এবং মহামণ্ডলেশ্বর বৈভবী মহারাজের মতো ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে এই চালিসা পাঠের আয়োজন করা হয়। মূলত ট্রান্সজেন্ডার অধিকার আইন পাশ করিয়ে তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নামে একটি বিশেষ মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের, আর তারই অংশ হিসেবে এই চালিসা পাঠের অনুষ্ঠান।
বিতর্কের পারদ চরম সীমায় পৌঁছাতেই অবশ্য অবস্থান পরিষ্কার করেছে প্রেসক্লাব অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। নিজেদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়ে তারা সাফ জানায়— প্রেস ক্লাব নিজস্ব উদ্যোগে কোনোভাবেই এই ভক্তি সম্মেলনের আয়োজন করেনি। একটি বিশেষ সংগঠনকে কেবলমাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্য হল ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা প্রেস ক্লাবের নিয়ম ও শর্তাবলী লঙ্ঘন করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু করতেই সাথে সাথে হস্তক্ষেপ করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে এই ঘটনাটি কোনো এডিটেড বা ভুয়ো ভিডিও না হলেও, এটি ছিল আয়োজকদের নিয়মভঙ্গের ফল, যা এখন রাজনীতি ও ব্যক্তিপূজার সীমানা নিয়ে নেটপাড়ায় নতুন তর্ক উসকে দিয়েছে।